আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহ। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বাংলা সফর ঘিরে জটিলতার দায়ে কেন্দ্র ডেপুটেশন দেওয়ার পরেই সরানো হল দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মনীশ মিশ্রকে। তাঁর জায়গায় জেলাশাসক হলেন সুনীল আগরওয়াল। এর পাশাপাশি সরানো হয়েছে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকরকেও।
গত শনিবার ৭ মার্চ উত্তরবঙ্গ সফরে শিলিগুড়িতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর সফরে অনুষ্ঠানস্থলের আচমকা পরিবর্তন ও প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় কড়া অবস্থান নেয় কেন্দ্র। দার্জিলিঙের জেলাশাসক এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে ডেপুটেশনে চাওয়া হয়। শুক্রবার নবান্নের কাছে এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তারপরেই পদক্ষেপ। মনীশ মিশ্রকে করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র এবং পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের বিশেষ সচিব। দার্জিলিংয়ের নতুন জেলাশাসক করা হয়েছে সুনীল আগরওয়ালকে।
গত শনিবারের রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে রাজ্যের তরফে কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ উঠেছিল। রাজ্য প্রশাসন পাল্টা জানিয়েছিল, শিলিগুড়ির যে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি যোগ দিয়েছিলেন সেটি ছিল একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগ, এবং সেখানে প্রোটোকল ভাঙার কোনও ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি এই ইস্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির পদকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে।
গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করেছিলেন, হয়তো মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাঁর উপর রাগ করেছেন বলেই তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেননি। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে। হয়তো তিনি রাগ করেছেন। তবে এতে আমার কোনও রাগ নেই।”
পাল্টা মমতা বলেন, “মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু তাঁকে দিয়েও রাজনীতি করানো হচ্ছে। বিজেপির এজেন্ডা নিয়ে তাঁকে পাঠানো হয়েছে। আমি দুঃখিত ম্যাডাম, কিন্তু আপনি বিজেপির ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন।”
সাধারণত, রাজ্য চাইলে কেন্দ্রের অনুরোধ মেনে দুই আধিকারিককে ডেপুটেশনে পাঠাতে পারে। এতে সংঘাত এড়ানো যায়। অথবা ডেপুটেশনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানও করতে পারে রাজ্য। সেক্ষেত্রে যথাযথ যুক্তি দেখাতে হবে রাজ্যকে।