মিল্টন সেন, হুগলি, ১৪ মার্চ: যুদ্ধের আঁচ প্রভাব ফেলেছে হেঁসেলে। গ্যাস সঙ্কটে নাজেহাল জেলা। বিপাকে মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। বন্ধ হয়ে গেছে নামীদামী মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠানের একাধিক কাউন্টার। তবুও চন্দননগরের জলভরা এখনও পাওয়া যাচ্ছে। তাও আবার বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করে। ঐতিহ্যের জলভরা ক্রেতার হাতে তুলে দেওয়াই লক্ষ্য সূর্য মোদকের।
প্রসঙ্গত, ১৮১৮ সালে চন্দননগরে জলভরা তৈরি করেছিলেন সূর্য মোদক। জামাই ঠকানো মিষ্টি নামে পরিচিত ছিল এই তালশাঁস আকৃতির সন্দেশ। উপরে কড়া পাকের সন্দেশ। ভেতরটা রসে ভরা। খেতে সুস্বাদুও থাকে অন্য মিষ্টির থেকে বেশিদিন। সেই মিষ্টি ২০০ বছর পেরিয়েছে। এখনও সমান চাহিদা রয়েছে।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি গ্যাসে টান পড়েছে। আর তার সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে হেঁসেলে। হোটেল রেস্তরাঁর পাশাপাশি মিষ্টির দোকানগুলোতে তাদের প্রতিদিনের মিষ্টি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক নামী মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান ঝাঁপ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। বন্ধ হয়েছে হুগলির নামকরা মৃত্যুঞ্জয় অ্যান্ড সন্স এর একাধিক কাউন্টার। গ্যাসের জোগান না থাকায় বন্ধ করে দিতে হয়েছে সংস্থার ছটি কাউন্টার। ইতিমধ্যেই শ্রীরামপুর, ভদ্রেশ্বর, চন্দননগর, মানকুন্ডু এবং চুঁচুড়ায় ছটি কাউন্টার বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি আরও ছয়টি দোকান নম নম করে চলছে। তবে সেগুলোও যেকোনও সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। জানা যায় ভদ্রেশ্বরের মৃত্যুঞ্জয় সরকার যে মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেছিলেন তা কলেবরে বেড়েছে অনেকটাই। দুটি কারখানায় বহু শ্রমিক কাজ করেন। পাশাপাশি কাউন্টারগুলিতেও অনেক শ্রমিক রয়েছেন। কাউন্টার বন্ধ হওয়ায় তাদের সমস্যা সব থেকে বেশি। যারা মৃত্যুঞ্জয়ের রসগোল্লাই হোক বা লর্ড চমচম অথবা দই, যুদ্ধ না থামলে আপাতত সেগুলো আর পাতে পরবে না। এদিকে চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী জলভরা সন্দেশ তৈরি করে সূর্য মোদকের বংশধর। শৈবাল মোদক জানিয়েছেন, মাসে পাঁচটা কমার্শিয়াল সিলিন্ডার লাগে তার কারখানায়। সেখানে বর্তমানে একটা সিলিন্ডারে কাজ চলছে। গ্যাস শেষ হয়ে গেলে কি হবে সেটাই হচ্ছে সমস্যা। তার ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বহু মানুষ জড়িত। তাদের কথাও ভাবছেন তিনি। কেন্দ্র সরকার এই সঙ্কটকালে ডিজেল এবং কেরোসিন ব্যবহারের উপরে ছাড় দিয়েছে। শৈবাল বাবু আরও বলেছেন, তিনি গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ডিজেলের উনুন ইনস্টল করেছেন। এই সময় রসের মিষ্টি আর তৈরি করা যাবে না। কিন্তু জলভরা যাতে বন্ধ না হয় সেই চেষ্টা করবেন।