বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: মোদি সরকার প্রথমে জানিয়েছিল, গৃহস্থের রান্নার গ্যাস ডেলিভারির ২৫ দিন পর ফের সিলিন্ডার বুকিং করা যাবে। কিন্তু তারপরই স্বয়ং পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর ঘোষণা, গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিনের আগে বুকিং করা যাবে না। ধন্দের সূচনা এখানেই। রাজ্যের আনাচে কানাচে এখন একটাই প্রশ্ন ধাক্কা দিচ্ছে, গ্রামীণ গ্রাহক কারা? শহরের সংজ্ঞাই বা কী? চূড়ান্ত শহর এলাকা বলে পরিচিত কোনো এলাকার একাংশ যদি পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে, তাহলে কি তা গ্রাম হয়ে গেল? এর উত্তর মিলছে না। অন্তত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা বা ডিস্ট্রিবিউটররা তো দিচ্ছেন না। তাই ধন্দ বাড়ছে আম জনতার মধ্যে।
ডিস্ট্রিবিউটররা জানাচ্ছেন, অঞ্চল বা এলাকার উপর ভিত্তি করে বর্তমানে দেশে চার রকমের ডিস্ট্রিবিউটরশিপ আছে—‘শেহেরি’, ‘রারবান’, ‘গ্রামীণ’ এবং ‘দুর্গম ক্ষেত্রীয়’। প্রথমটি শুধুমাত্র শহরের গ্রাহকদের জন্য। দ্বিতীয়টি শহর এবং গ্রামের গ্রাহকদের একযোগে সিলিন্ডার সরবরাহ করতে। তৃতীয়, শুধুমাত্র গ্রামীণ এলাকার জন্য। আর চতুর্থটি দুর্গম এলাকার জন্য, আর সেটাও মূলত গ্রাম।
তাহলে সমস্যা কোথায়? ১) গ্রাহক ঠিক কোন ক্যাটিগরিতে পড়েন, তা তিনি জানেন না। তাঁর তা জানার কথাও নয়। কারণ, তিনি তাঁর পছন্দের বা নিকটবর্তী ডিস্ট্রিবিউটর বাছাই করে, সেখানকার গ্রাহক হয়েছেন। ২) ডিস্ট্রিবিউটরশিপ যেমনই হোক না কেন, ডিস্ট্রিবিউটর তাঁর এলাকার গ্রাম ও শহর—দু’জায়গার গ্রাহককেই সিলিন্ডার ডেলিভারি করেন। অর্থাৎ ক্যাটিগরি যাই হোক না কেন, সর্বত্রই গ্রাম-শহর মিলেমিশে একাকার হয়ে রয়েছে। ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশের কথায়, ২০০৯ সালে ‘রাজীব গান্ধী গ্রামীণ এলপিজি বিতরক’ নামে একটি যোজনা চালু ছিল। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই স্কিমে নতুন করে ডিস্ট্রিবিউটরশিপ বণ্টন বন্ধ করে দেয়। কিন্তু সেই স্কিমের আওতায় বর্তমানে লক্ষ লক্ষ গ্রাহক আছেন, যাঁরা শহরে বাস করেন। তাঁদের ক্ষেত্রে তাহলে কোন শর্ত খাটবে? ২৫ না ৪৫ দিন?
ডিস্ট্রিবিউটরদের বক্তব্য, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা তো বটেই, অন্যান্য জেলাতেও বহু শহুরে এলাকা পঞ্চায়েত এলাকাভুক্ত। অথচ সেসব জায়গায় শেহেরি বা রারবান ক্যাটিগরির ডিস্ট্রিবিউটরশিপ রয়েছে। কোথাও আবার পুরোদস্তুর শহরের মধ্যেই গ্রামীণ ক্যাটিগরি। তাই এখানে কোন নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা স্পষ্ট হচ্ছে না। অল ইন্ডিয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর্স ফেডারেশনের সহ সভাপতি বিজনবিহারী বিশ্বাস বলেন, ‘শহর ও গ্রামের গ্রাহক আলাদা করা কীভাবে সম্ভব, জানি না। আমাদের কাছে কোনো নির্দেশিকাও নেই। তাই গ্রাহকের প্রশ্নের জবাব দিতে পারছি না। তেল সংস্থাগুলির কাছে জানতে চাইলে, তারাও অন্ধকারে রয়েছে বলে দাবি করছে। গ্রাহক যদি দেখেন তিনি ৪৫ দিন আগে বুকিং করতে পারছেন না। অথচ তাঁর বাড়ির পাশে আর একজন ২৫ দিনে গ্যাস বুক করে ফেলছেন, তাহলে ক্ষোভ বাড়বে।’ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া এইচপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সঞ্জয় আগরওয়াল বলেন, ‘বহু ক্ষেত্রে রেললাইনের একপাশে শহর, একপাশে গ্রাম। গ্যাস বুক করতে না পারায় এমনিতেই গ্রাহকের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ জমছে। এরপর যদি শহর-গ্রাম আলাদা করা হয়, তাতে সমস্যা বাড়বে।’