মুক্তির অপেক্ষায় অরিন্দম শীল পরিচালিত ‘কর্পূর’। মুখ্য চরিত্রে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। কেমন সেই অভিজ্ঞতা? এক সাক্ষাৎকারে অকপট নায়িকা।
প্রশ্ন : ‘কর্পূর’ ছবির চরিত্র মৌসুমী সেন বাস্তবের আঙ্গিকে তৈরি। এক্ষেত্রে কোন কোন দিকে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন?
ঋতুপর্ণা : প্রথমত মৌসুমী সেন নিয়ে চরিত্রটির ব্যক্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ। এত ঋজু ব্যক্তিত্বপূর্ণ মানুষ, যাঁর হাতে অসীম ক্ষমতা। কিন্তু, পরমুহূর্তেই মনে হচ্ছে তিনি ক্ষমতাচ্যূত। চরিত্রের এই মানসিক দ্বন্দ্ব আমার কাছে চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছিল। সর্বোপরি মৌসুমী যেন চারদিকে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এক বিপ্লবের নাম। সেই দিকটা ভীষণভাবে নজরে রেখেছিলাম।
প্রশ্ন : নয়ের দশকের শেষের দিকে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই বাস্তব ঘটনা আপনার স্মৃতিতে রয়েছে?
ঋতুপর্ণা : না, আমার স্মৃতিতে এরকম কিছু নেই। এই ছবিতে দর্শক নতুন ধরনের স্বাদ পাবেন। বিবেকের উপলব্ধি ঘটবে। এই ছবিতে ট্রমা, মানসিক টানাপোড়েন আছে। আর আছে টানটান থ্রিলার।
প্রশ্ন : বাস্তবে নানা ব্যস্ততার মাঝে কখনো কর্পূরের মতো উবে যেতে ইচ্ছে হয়েছে?
ঋতুপর্ণা : (হাসি) হ্যাঁ মাঝে মাঝে ভীষণ ইচ্ছে করে উধাও হয়ে যাই। কর্পূরের মতো উবে যাই। কিন্তু, আবার বাস্তবে ফিরে আসি। কারণ বেশ কিছু দায়িত্ব রয়েছে আমার। দায়িত্ব ছেড়ে পালাতে পারি না। জীবনে বেশ কিছু লক্ষ্য রয়েছে। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই।
প্রশ্ন : একজন নারীর কর্পূরের মতো উবে যাওয়া নারী হিসেবে কতটা ভাবিয়েছে?
ঋতুপর্ণা : একজন নারীর এই দুম করে উবে যাওয়ার নেপথ্য নিশ্চয়ই অনেক কারণ থাকে। সেই কারণগুলো কী কী তার সব উত্তর দেবে আমাদের ছবি ‘কর্পূর’।
প্রশ্ন : বর্তমান সময়ে ট্রোলিং সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অনেকে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন। আপনার উপর এগুলো কতটা এফেক্ট করে?
ঋতুপর্ণা : আমার এখন এগুলো অভ্যেস হয়ে গিয়েছে। ট্রোলকে আমি আর এখন পাত্তা দিই না। আগে সামাজিক মাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল একে অপরের সঙ্গে বন্ধন দৃঢ় করা। দর্শকের সঙ্গে শিল্পীদের খুব দৃঢ় বন্ধন তৈরি হত সামাজিক মাধ্যমে। সেই বন্ধনে এখন ট্রোলের জন্য এত আঘাত আসে, সেটা তো মানুষ হিসেবে অবশ্যই আমার খারাপ লাগে। গঠনমূলক সমালোচনা স্বাগত। অশালীন কোনো মন্তব্য শুধু শিল্পী নয়, যে কোনো মানুষের জন্যই কাম্য নয়।
ঋতুপর্ণা : আমি রাজনীতির শিকার হয়েছি কি না, সঠিক জানি না। তবে পেশাগত জীবনে সব কঠিন লড়াই পেরিয়ে আসতে পেরেছি দর্শকের আশীর্বাদে। এখনও লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড়াই এবং লড়াই করেই নিজের জায়গায় টিকে রয়েছি। আশা করি, ভবিষ্যতেও টিকে থাকব। সব জায়গাতেই লড়াই রয়েছে, রাজনীতি রয়েছে। সেটা মেনে নিয়েই কাজ করতে হয়।
প্রশ্ন : আপনি সক্রিয় রাজনীতিতে আসবেন?
ঋতুপর্ণা : যাঁরা রাজনীতি করেন, তাঁরা বহুদিন ধরে রাজনীতির ময়দানে রয়েছেন। আমি শিল্পী। আমার শিল্পীসত্ত্বা রয়েছে। সামাজিক কিছু কর্তব্য রয়েছে। আমি সেই জায়গা থেকেই নিজের কাজ করতে চাই। আমার ইন্ডাস্ট্রি থেকে অনেকেই রাজনীতিতে এসেছেন, তাঁদের জন্য আমার শুভেচ্ছা রয়েছে। রাজনীতিতেও হয়তো তাঁরা অনেক ভালো কাজ করবেন। তাঁরা যদি দু’দিকটা ব্যালেন্স করতে পারেন, সেটা তাঁদের দারুণ জয়। আমার জয় আমার শিল্পে।