• ‘বিয়ে মোদীজিকে, প্রেম...’, রাজ্যসভায় খাড়গের বিদায়ী ভাষণ শুনে প্রধানমন্ত্রীর মুখেও ছড়াল হাসি
    এই সময় | ১৮ মার্চ ২০২৬
  • হইহল্লা, হট্টগোল, তর্ক-বিতর্কই রাজ্যভায় পরিচিত ছবি। সেই কক্ষেই বুধবার দেখা গেল একেবারে অন্য চিত্র। এ দিন রাজ্যসভার পরিবেশ ছিল একটু অন্যরকম। মেয়াদ শেষ হওয়া সাংসদদের বিদায়ী ভাষণে আবেগে প্রবণ হয়ে পড়ে রাজ্যসভা। আবেগে ভারী হয়ে ওঠা বাতাস কেটে হাসির ফুলঝুরির দেখা মেলে সংসদের উচ্চকক্ষের বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ভাষণে। কংগ্রেস সভাপতি ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মোদীকে জড়িয়ে একটি মন্তব্য করেন তিনি। তা শুনেই হাসিতে ফেটে পড়েন বাকি সাংসদেরা। মুচকি হাসি দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীর মুখেও।

    বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হলো এ দিন রাজ্যসভা। বুধবার রাজ্যসভায় বিদায়ী সাংসদদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে খাড়গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংসদের অভিজ্ঞতা তাঁকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে এবং বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে।

    এই সময়ে খাড়গের মুখে শোনা যায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ. ডি. দেবেগৌড়া-র কথা। তিনি দেবগৌড়ার সঙ্গে তাঁর ৫৪ বছরের রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। খাড়গে মজার ছলে বলেন—‘ওঁকে ৫৪ বছর ধরে চিনি, একসঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু পরে কী হলো জানি না—উনি আমাদের সঙ্গে প্রেম করলেন, কিন্তু বিয়ে করলেন মোদীজিকে।’ এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যসভায় হাসির রোল পড়ে যায়। উপস্থিত সাংসদরা যেমন হাসেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রী মোদীকেও হাসতে দেখা যায়।

    প্রসঙ্গত, খাড়গের এই মন্তব্য নিছক রসিকতা হলেও এর মধ্যে ছিল রাজনৈতিক খোঁচা। ১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর দেবেগৌড়া এক বছরেরও কম সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত ফ্রন্ট সরকারকে কংগ্রেস সমর্থন করেছিল। ২০১৮ সালের রাজ্য নির্বাচনের জন্য এইচ ডি দেবেগৌড়ার জেডিএস কর্নাটকে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে এবং সেই জোট জয়লাভ করে। দেবেগৌড়ার ছেলে এইচ ডি কুমারাস্বামী (HD Kumaraswamy) মুখ্যমন্ত্রী হন, কিন্তু ২০১৯ সালে বেশ কয়েকজন কংগ্রেস ও জেডিএস বিধায়কের বিদ্রোহের পর রাজ্য সরকার ভেঙে যায়। পরে জনতা দল (সেকুলার) বা JDS বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সঙ্গে হাত মেলায় এই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনকেই ইঙ্গিত করে খাড়গে তাঁর মন্তব্য করেন।

    শুধু দেবগৌড়াই নয়, কংগ্রেস সভাপতি খাড়গে এ দিন আরপিআই(এ) প্রধান রামদাস আঠাওয়ালের দিকেও কটাক্ষ ছুড়ে দেন খাড়গে। তিনি বলেন,‘আঠাওয়ালে তাঁর কবিতায় সবসময়ে মোদীজির প্রশংসা করেন। ওঁর অন্য কোনও কবিতা জানা নেই।’ তাঁর এই কথায় কংগ্রেস সদস্যরা হেসে ওঠেন।

    তীব্র রাজনৈতিক মতপার্থক্যের মধ্যেও সংসদে এদিন বিরল রসিকতা ও সৌহার্দ্যের মুহূর্ত তৈরি হয়। একটা সময় সংসদে ইস্যুভিত্তিক তর্ক-বিতর্ক আলোচনা যা-ই চলুক না কেন, শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সৌজন্যের ঘাটতি হত না। মোদী সরকারের আমলে সেরকম সৌজন্যের দেখা মেলে না বলে অভিযোগ বিরোধীদের। কিন্তু এদিন একেবারে অন্যরকম দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রাজ্যসভা।

    এ দিন আসলে মল্লিকার্জুন খাড়গে, এইচ ডি দেবেগৌড়া, শরদ পওয়ারের মতো বর্ষীয়ান নেতাদের জন্য বুধবার ছিল রাজ্যসভার শেষদিন। এঁদের মধ্যে খাড়গে এবং দেবগৌড়া আর রাজ্যসভায় ফিরবেন না। তাঁদের বিদায় সংবর্ধনা জানাতে এদিন রাজ্যসভায় আসেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বিদায়ী সাংসদদের শুভকামনা জানিয়ে বলেন যে, ‘রাজনীতিতে কোনো পূর্ণচ্ছেদ নেই।’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আপনাদের অভিজ্ঞতা ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ তিনি নবনির্বাচিত সাংসদদের দেবে গৌড়া, খাড়গে এবং পাওয়ারের মতো প্রবীণদের কাছ থেকে শেখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন,‘এইচডি দেবে গৌড়া জি, মল্লিকার্জুন খাড়গে জি এবং শারদ পাওয়ার জি হলেন প্রবীণ নেতা, যাঁরা তাঁদের জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় সংসদীয় কাজে কাটিয়েছেন। নবনির্বাচিত সাংসদদের তাঁদের কাছ থেকে শেখা উচিত।’

  • Link to this news (এই সময়)