• প্রাক্তন সাংবাদিক বিক্রম দোরাইস্বামীকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বেজিং পাঠাচ্ছে নয়াদিল্লি, চেনেন তাঁকে?
    এই সময় | ১৯ মার্চ ২০২৬
  • পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ আবহে বেজিং-নয়াদিল্লি সম্পর্ক এখন সংবেদনশীল। এমনই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন সাংবাদিক এবং প্রবীণ কূটনীতিক বিক্রম দোরাইস্বামী-কে বেজিংয়ের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করল ভারত সরকার। বিশ্বে কূটনীতির সমীকরণ সম্প্রতি বদলেছে। সেই কারণেই দোরাইস্বামীর নিয়োগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিক্রম দোরাইস্বামী বর্তমানে United Kingdom-এ ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিদেশ মন্ত্রক দোরাইস্বামীর কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানিয়েছেন শীঘ্রই তিনি বেজিংয়ে কাজে যোগ নেবেন।

    প্রদীপ রাওয়াতের স্থলাভিষিক্ত হবেন বিক্রম দোরাইস্বামী। পূর্ব লাদাখে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা উত্তেজক পরিস্থিতি এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে সমাপ্ত হওয়া দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থার সময়ে ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন প্রদীপ রাওয়াত। কূটনৈতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পট পরিবর্তনকে মাথায় রেখেই নয়া রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করল সাউথ ব্লক।

    বিক্রম দোরাইস্বামী দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কূটনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য সাংবাদিকতাও করেছিলেন। দোরাইস্বামী ১৯৯২ সালের IFS। শুরুতে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকে যোগদান করেন। তাঁর কেরিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল চিন-সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা। কর্মজীবনের শুরুতেই তিনি হংকংয়ে ছিলেন এবং সেখানে চিনা ভাষা— ম্যান্দারিনও শিখেছিলেন। পরে বেজিং-এ ভারতীয় দূতাবাসেও কাজ করেছেন বিক্রম, যে কারণে চিন সংক্রান্ত কূটনীতিতে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে তাঁর।

    এখানেই শেষ নয়, বিক্রমের কূটনৈতিক কেরিয়ারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে তিনি বাংলাদেশ-এ (২০২০–২০২২) ভারতের হাই কমিশনার ছিলেন। ঢাকায় তাঁর কার্যকালে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জন্য পরিচিত ছিলেন। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া এবং উজবেকিস্তান-এ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন দোরাইস্বামী। সদর দপ্তরে নিযুক্ত থাকাকালীন SAARC এবং ইন্দো-প্যাসিফিক বিভাগ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্বও পালন করেছিলেন ।

    সম্প্রতি লন্ডনের দায়িত্বে থাকাকালীন দোরাইস্বামী ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। চরমপন্থী কার্যকলাপ সংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসন করা এবং ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সমাপ্ত হওয়া একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এই কূটনীতিবিদ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অর্থাৎ জিও-পলিটিক্যাল পরিস্থিতিতে চিনে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিক্রম দোরাইস্বামীর নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সীমান্ত উত্তেজনা, বাণিজ্য এবং কৌশলগত সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই ভারত-চিন সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষায় তাঁর ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)