ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিমেহদি তাজ (Mehdi Taj) জানিয়েছেন, ইরান আসন্ন FIFA World Cup-এ অংশ নেবে, তবে তবে রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে আমেরিকাকে তারা বয়কট করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেব। আমরা আমেরিকাকে বয়কট করব, কিন্তু বিশ্বকাপকে নয়।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ ক্রীড়া ও রাজনীতির এই সূক্ষ্ম সম্পর্ক আবারও সামনে উঠে এল।
বর্তমানে ইরানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি আমেরিকায় হওয়ার কথা। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যেই FIFA-র সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, ম্যাচগুলি অন্য দেশে সরানোর জন্য। যদিও ফিফা জানিয়েছে, আপাতত সূচিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম (Claudia Sheinbaum) জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে মেক্সিকো ইরানের ম্যাচ আয়োজন করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, মেক্সিকো বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। তাই ফিফা কী সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা সেটার অপেক্ষা করব।’
পশ্চিম এশিয়ায় চলতি সংঘাতের কারণে ইরানের ফুটবল বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, আমেরিকায় খেলতে এলে ইরানি ফুটবলারদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। প্রথমে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino) জানান, ট্রাম্পের কাছ থেকে ইরানের অংশগ্রহণের অনুমতির আশ্বাস পাওয়া গিয়েছে।
পরে অবশ্য ট্রাম্প বলেন, ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য ইরানের দলটির এই টুর্নামেন্টে না আসাই ভালো।’ এর জবাবে ইরানের তরফে জানানো হয়, ‘কেউই ইরানের জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারে না।’
ইরান প্রায় এক বছর আগেই নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়,জাপানের পর দ্বিতীয় এশীয় দল হিসেবে। তাদের বেস ক্যাম্প আমেরিকার অ্যারিজোনার টাকসনে করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভিসা ও লজিস্টিক সহায়তা নিয়ে মার্কিন সরকারের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। যদি শেষমেশ ইরান টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তা হলে তাদের বদলে কোন দল সুযোগ পাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।