আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমলো শুক্রবার। দাম কমলেও তা ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরেই রয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমেছে ১.২৪ ডলার বা ১.১ শতাংশ। এর জেরে প্রতি ব্যারেলের দাম হয়েছে ১০৭.৪১ ডলার। অন্য দিকে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম কমেছে ১.২৪ ডলার বা ১.৩ শতাংশ। এর জেরে এই ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম হয়েছে ৯৪.৯০ ডলার। এই দাম কমার পরেও এ সপ্তাহের নিরিখে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশ বেশি রয়েছে।
আমেরিকা ও ইজ়রায়েল সামরিক হামলা শুরুর পরেই হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। এর জেরেই চড়তে শুরু করে জ্বালানি তেলের দাম। বুধবার ইজ়রায়েল ইরানের গ্যাস ফেসিলিটি সেন্টার হামলা করে। জবাবে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক জ্বালানি ঘাঁটিতে হামলা করে ইরান। যার জেরে বৃহস্পতিবার বিপুল বৃদ্ধি হয়েছিল অশোধিত জ্বালানি তেলের দামে। তবে ইজ়রায়েলের প্রাইম মিনিস্টার বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইজ়রায়েল ইরানের এনার্জি পরিকাঠামোয় হামলা করবে না। এই ঘোষণা কিছুটা আশা জাগিয়েছে।
ইউএস ট্রেজ়ারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার চিন্তাভাবনা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞা উঠলে ইরানের তেল আরও বেশি করে বাজারে আসতে পারবে। যা নিশ্চিত ভাবে জোগান বৃদ্ধি করবে। এর পাশাপাশি আমেরিকাপর পেট্রোলিয়াম রিজ়ার্ভ থেকে আরও তেল বাজারে ছাড়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
হরমুজ় প্রণালীর অবরোধ তোলার জন্য আগেই বিভিন্ন দেশকে আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে ইউরোপের একাধিক দেশ। বৃহস্পতিবার ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, নেদারল্যান্ডস এবং জাপান এ নিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। হরমুজ়ে সেফ প্যাসেজ বানিয়ে এগিয়ে আসতে পারে এই সব দেশ। এই সব কারণের জন্যই শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এর পাশাপাশি তাঁদের সতর্কবার্তা, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিস্থিতির যদি অবনতি হয় এবং তা যদি দীর্ঘ সময় চলতে থাকে, তাহলে ক্রুড অয়েলের প্রতি ব্যারেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়াতে পারে।