• ‘লাস্ট বলে ছক্কা মেরে জিতব’: দেবাংশু
    আজকাল | ২০ মার্চ ২০২৬
  • মিল্টন সেন

    চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য।  শুক্রবার হুগলির সাংসদ রচনা ব্যানার্জির সঙ্গে দেখা করে তিনি বলেন, ‘শেষ বলে ছক্কা মেরে জিতব, ঠিক যেমন রিয়েলিটি শো-তে গিয়ে জিতেছিলাম।’

    দেবাংশু জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি রিয়েলিটি শো-র স্টুডিওতে রচনা ব্যানার্জির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে আমি পিছিয়ে ছিলাম, কিন্তু ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আমিই জিতেছিলাম। চুঁচুড়াতেও হয়তো এখন আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি, কিন্তু শেষ রাউন্ডে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে আনব বলেই আমার বিশ্বাস।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। তৃণমূল কংগ্রেস একটি আবেগনির্ভর দল, অন্যদের মতো কড়া নিয়মে বাঁধা নয়। আবেগের বশে অনেক সময় বেশি কথা বলে ফেলি, তবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করছি, যাতে চুঁচুড়ায় ‘হনুমানের পাল’ ঢুকতে না পারে।’

    এদিকে, বিজেপির পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা এখনও প্রকাশিত না হওয়া নিয়ে কটাক্ষ করেছেন দেবাংশু। তাঁর বক্তব্য, ‘ওরা শেষে দিদির দরজায় কড়া নাড়বে।

    ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল যাদের গুরুত্ব দেয়নি, তাদেরই প্রার্থী করেছিল বিজেপি। এখন আবার নতুন করে প্রার্থী খুঁজতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রার্থী না পেলে হয়তো আবার কালীঘাটে গিয়ে সাহায্য চাইতে হবে। কিন্তু চুঁচুড়া থেকে কাউকে পাবে না বিজেপি।’

    রাজনীতির ময়দানে লড়াই থাকলেও পারিবারিক স্নেহের বন্ধন যে অটুট, তার প্রমাণ ইতিমধ্যেই মিলেছে চুঁচুড়ায়। টিকিট না পেয়ে গত কয়েকদিন ধরে দলের ওপর যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার, বুধবার তাতে ইতি পড়ে।

    এদিন প্রচারের মাঝেই আসিতবাবুর বাড়িতে পৌঁছে যান তৃণমূলের তরুণ তুর্কি তথা এই কেন্দ্রের নতুন প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য। দীর্ঘ আলোচনার পর দীর্ঘদিনের ‘অভিমান’ ধুয়ে মুছে গিয়ে তৈরি হলো এক নতুন রসায়ন।

    এদিন প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকে অসিত মজুমদারের গলায় যে সুর শোনা গিয়েছিল, এদিন তা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। দেবাংশুকে পাশে নিয়ে বর্ষীয়ান এই নেতা জানান, ‘দেবাংশু আমার সন্তানের মতো। ও অনুরোধ করেছে, তাই ওর পাশে আমি আছি।’

    শুধু তাই নয়, অসিত স্পষ্ট করে দেন যে মমতা ব্যানার্জিকে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্যপূরণে তিনি দেবাংশুর হয়ে জান লড়িয়ে দেবেন।

    অন্যদিকে, বড় দাদার থেকে আশীর্বাদ নিয়ে আপ্লুত দেবাংশু বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি যেমন আমাদের মাথার ওপরে আছেন, চুঁচুড়ায় আমাদের অভিভাবক হলেন অসিতদা। দাদাকে ছাড়া আমি এখানে এক পা-ও চলতে পারব না। গত কয়েকদিন উনি যা বলেছেন, তা আদতে অভিমান থেকেই বলেছেন, আর সেটা হওয়াটাই স্বাভাবিক।’ এদিন দুজনেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তাঁদের একসঙ্গে প্রচারে দেখা যাবে।
  • Link to this news (আজকাল)