• বকেয়া ডিএ পাবেন তো? অনিশ্চয়তায় শিক্ষকরা, সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত
    আজ তক | ২০ মার্চ ২০২৬
  • রাজ্যের সরকারি কর্মী ও শিক্ষকদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) ইস্যুতে এবার সরব সরকার-পোষিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, লাইব্রেরিয়ান ও শিক্ষাকর্মীরা। অভিযোগ, তাঁদের প্রাপ্য ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও সেখানে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। ফলে আদৌ তাঁরা বকেয়া পাবেন কি না সেই বিষয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তা নিরসনে স্কুল শিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এবং স্কুল শিক্ষা কমিশনারকে চিঠি দিল 'অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন'। সংগঠনের দাবি, সমস্য়ার সমাধান চেয়ে তাঁরা এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থও হবেন। 

    প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তিনটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। তার মধ্য়ে (Memo No. 996-F(P2), 997-F(P2)) অনুযায়ী, রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ/ডিআর পাবে বলে জানানো হয়। জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ সময়কালের বকেয়া ডিএ AICPI-এর ভিত্তিতে গণনা করে দুই কিস্তিতে মার্চ ২০২৬ এবং সেপ্টেম্বর ২০২৬-তে প্রদানের কথাও উল্লেখ করা হয়। কিন্তু শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ, একই সময়সীমার ক্ষেত্রে সরকার-পোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য জারি হওয়া Memo No. 998-F(P2)-এ সরাসরি অর্থপ্রদানের কোনও নির্দেশ নেই। বরং সেখানে শুধুমাত্র তথ্য সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে। এখানেই আপত্তি তাঁদের। 

    'অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন'-এর দাবি, অন্য সরকারি কর্মচারীদের মতো শিক্ষকদেরও রোপা ২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ/ডিআর মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই মিটিয়ে দিতে হবে। কারণ, বহু অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং পারিবারিক পেনশনভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এই বকেয়া ডিএ-র টাকা হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। অথচ প্রশাসনিক জটিলতার জাঁতাকলে ফেলে তা আটকে রাখা হচ্ছে। 

    এই বিষয়ে অল পোস্ট গ্র‍্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই বলেন, 'রাজ্য সরকার শিক্ষকদের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে। এটা কাম্য নয়। শিক্ষকরাও তো পরিশ্রম করেন। তাঁদের বকেয়া নিয়ে যে নির্দেশিকা বেরিয়েছে সেটার কোনও দিশা নেই। তাহলে কি আমরা ডিএ পাব না? এই প্রশ্নটা মনে ঘুরছে শিক্ষক বা পেনসনভোগীদের। রাজ্য সরকারের অবিলম্বে উচিত গোটা বিষয়টা পরিষ্কার করা। আমরা ইতিমধ্যেই শিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এবং স্কুল শিক্ষা কমিশনারকে চিঠি দিয়েছি। এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হব। মালহোত্রা কমিটিকে দেশের শীর্ষ আদালত দায়িত্ব দিয়েছে। ডিএ বাবদ কত টাকা দিতে হবে, কত ধাপে দেওয়া হবে তা সেই কমিটিই নির্ধারণ করবে। তাই আমরা তাদের চিঠি দেব। জানতে চাইব শিক্ষকদের নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ না দিয়ে সরকার কীভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে।'   

    চন্দন গড়াই আরও জানান, তাঁদের দাবি মানা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবেন তাঁরা। পেন-ডাউন, গণ-অনুপস্থিতি, অবস্থান-বিক্ষোভ, রিলে অনশনও করা হতে পারে। 

    প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ডিএ-র দাবিতে পথে নেমেছিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, সরকারিন কর্মচারী পরিষদের মতো সংগঠনগুলো। রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটও ডাকা হয়েছিল। ভোটের আগে শিক্ষকদের ডিএ সমস্যার সমাধান না হলে এরকম আন্দোলন ফের দেখতে পারে রাজ্যবাসী। 
     
  • Link to this news (আজ তক)