অফিস থেকে বাড়ি ফিরে সোফায় গা এলিয়ে বসলেন। এক কাপ চা নিয়ে হাসিমুখে এগিয়ে এলেন স্ত্রী। প্লেটে দুটো ধোঁয়া ওঠা গরম বেগুনি। মনে হবে, এই তো জীবন। কিন্তু যদি উল্টোটা হয়? স্ত্রী (Wife) যদি বেঁকে বসেন, রান্নাবান্না তিনি করতে পারবেন না। তা হলে? শুক্রবার একটি বিবাহ বিচ্ছেদের (Divorce) মামলায় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানিয়ে দিল, তা হলেও সেটাকে নিষ্ঠুরতা বলা যাবে না। কারণ যুগ বদলে গিয়েছে।
২০১৭ সালে গাঁটছড়া বাঁধেন ওই দম্পতি। তাঁদের ৮ বছরের এক শিশুপুত্রও রয়েছে। স্বামীর অভিযোগ, বিয়ের এক সপ্তাহ পর থেকেই স্ত্রীর আচরণ ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। খারাপ আচরণ, কটূ কথা - বাদ যেত না কিছুই। এই সব অভিযোগ তুলেই বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন স্বামী।
তবে শুধু খারাপ ব্যবহার নয়, তালিকা অনেক লম্বা। অভিযোগ, স্ত্রী রান্নাবান্না করতে চান না। সব সময়েই শ্বশুর, শাশুড়ির সঙ্গে কটূ ব্যবহার করেন। বীতশ্রদ্ধ হয়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন স্বামী। আদালতে জানান, তিনি বিচ্ছেদ চান।
এই সব দাবিদাওয়া দেখে স্বামীকে ধমক দিয়েছেন বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি বিক্রম নাথের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি সন্দীপ মেহতা বলেন, ‘আপনি কোনও পরিচারিকাকে বিয়ে করেননি। করেছেন জীবনসঙ্গীকে।’ শুধু তাই নয়, যুগ যে বদলে গিয়েছে সেই কথাও মনে করিয়ে দেন তাঁরা। বিচারপতি বিক্রম নাথ বলেন, ‘স্বামীকেও রান্নাবান্না ঘর মোছার মতো কাজে হাত লাগাতে হবে। আজকের সময়টা আলাদা।’
পাল্টা আদালতে পণ চাওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন ওই ব্যক্তির স্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সন্তানের জন্মের সময়ে শ্বশুরবাড়ির সম্মতিতেই তিনি বাবার বাড়ি গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর স্বামী অন্নপ্রাশনের সময়ে যাননি। উল্টে তখন থেকে সোনা আর নগদ টাকা দাবি করতে শুরু করেন।
উল্লেখ্য, পারিবারিক আদালতে প্রথমে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন স্বামী। সেখানে ‘নিষ্ঠুরতা’-র অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে বিবাহবিচ্ছেদও হয়ে গিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মহিলা। সেখানে বিবাহবিচ্ছেদ খারিজ হয়ে যায়। এর পরে তাঁর স্বামী যান সুপ্রিম কোর্টে। আদালতে প্রথমে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। পরবর্তী শুনানিতে দু’জনকেই সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা।