• ঘরের মাঠে মুম্বইয়ের কাছে হারল মোহন বাগান, বড়ো লজ্জার হাত থেকে বাঁচালেন বিশাল কাইথ
    বর্তমান | ২০ মার্চ ২০২৬
  • মোহন বাগান- ০ : মুম্বই-১ (নৌফল)

    শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: সাদা ফ্লেক্সে মেরুন-সবুজে লেখা ‘লোব-এরা।’ ম্যাচের আগেই ঢাউস টিফো দুলল মোহন বাগান গ্যালারিতে। নতুন কোচ, নয়া জমানা। তবু মুম্বই প্রাচীর টপকাতে ব্যর্থ মোহন বাগান। সের্গিও লোবেরাকে টেক্কা দিয়ে যুবভারতীতে ফের যুদ্ধজয় বাণিজ্যনগরীর ফ্র্যাঞ্চাইজিটির। তাগিদ, দৌড়, স্ট্র্যাটেজির ঝনঝনানি— সবেতেই টেক্কা দিলেন পিটার ক্র্যাটকি। ১৭ টা কর্নার পেয়েও কাজে লাগাতে পারলেন না কামিংসরা। তাহলে সেট পিস মুভমেন্ট অনুশীলন করে লাভ কী? সাংবাদিক ও সমর্থকদের অনুশীলনের কাছাকাছি ঘেঁষতে দেওয়া হয় না। যেন কী না কী হচ্ছে! এই তো তার ফল। ভারতসেরা দল গড়েও পরপর দু’টি ম্যাচে জয় অধরা। পক্ষান্তরে, এদিন জিতে লিগ জমিয়ে দিল মুম্বই। ৬ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে তারা। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে লোবেরা ব্রিগেড। উল্লেখ্য, ১৮ ম্যাচ পরে ঘরের মাঠে হারের মুখ দেখল মোহন বাগান।

    ম্যাচের আগে ক্যামেরার জুমে দেখা গেল রবসনকে। ডাগ-আউটে জল খাচ্ছিলেন ব্রাজিলিয়ান উইং-হাফ। ওই জায়গায় শুরুতে পেত্রাতোসকে খেলালেন লোবেরা। কিন্তু ভালপুইয়ার পাতা জালে ধরা পড়লেন দিমি। আগের ম্যাচে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখেছিলেন ভালপুইয়া। ফেডারেশনে আবেদন করে তাঁকে মাঠে নামানো মুম্বই ম্যানেজমেন্টের কৃতিত্ব। যাই হোক, দিমি আটকে যেতেই শাফল করিয়ে লিস্টনকে বাঁ প্রান্তে নিয়ে এলেন লোবেরা। তবে লাভের লাভ কিস্যু হয়নি। পিটার ক্র্যাটকি বড় কোচ। প্রথমার্ধে তাঁর কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর স্ট্র্যাটেজি দারুণভাবে সফল। তিনি জানতেন, ঘরের মাঠে শুরুতেই গোল তুলে নিতে চাইবে মোহন বাগান। প্রথম ১৫ মিনিট ঝড়-ঝাপটা সামাল দিল মুম্বই রক্ষণ। দুই স্টপারের উপর পেন্ডুলামের মতো দুলে নির্ভরতা দিলেন সেই জনি কাউকো। ২২ মিনিটে খোলস ছেড়ে বেরোয় মুম্বই। এক্ষেত্রে পেরেরা ডিয়াজের রক্ষণ চেরা থ্রুপাস থেকে অরক্ষিত বিশালকে পেয়ে গিয়েছিলেন ছাংতে। এগিয়ে এসে গোলমুখ ছোটো করে নিশ্চিত বিপদ বাঁচান কাইথ। ছিটকে আসা বল আকাশ মিশ্র হেড করার মুখে চিলের মতো ছোঁ মেরে ক্লিয়ার করলেন মেহতাব সিং। কিন্তু মোহন বাগান রক্ষণ সতর্ক হল কোথায়? ২৮ মিনিটে টানা পাঁচ পাসের পর জাল কাঁপাল মুম্বই। এক্ষেত্রে আলবার্তোকে কভার করে টপ বক্সে পাস বাড়িয়েছিলেন ছাংতে। বল ধরে আগুয়ান নৌফলকে সাজিয়ে দেন অভিজ্ঞ কাউকো। ডান পায়ের ইনস্টেপে বিশালকে হার মানাতে ভুল করেননি নৌফল (১-০)।
    গোল হজম করে কিছুটা গা ঝাড়া দিলেন লিস্টনরা। বিরতির আগে কামিংসের হেড শরীর ছুড়ে রুখে দেন তেম্পা। এরপরেই ব্যবধান বাড়ানোর সোনার সুযোগ হারালেন সেই ছাংতে। গতিতে বল ধরে পৌঁছে গেলেন ছ’গজের বক্সে। এগিয়ে এসে নিশ্চিত গোল বাঁচালেন বিশাল। ফিরতি বলে রিফ্লেক্স মোডে ডিয়াজের ভলিও সেভ করলেন। গোলরক্ষকের জন্যই বড়ো লজ্জার হাত থেকে বাঁচল মোহন বাগান। সবুজ-মেরুন স্কোয়াডে ম্যাকলারেনের মতো স্কোরার রয়েছেন। কিন্তু প্লে-মেকার কোথায়? অনিরুদ্ধ থাপা, দীপক টাংরিরা অচল আধুলি। ভারতীয় ফুটবলের এই দুর্দশা বলে খেলে অর্থ উপার্জন করছেন। আট কিংবা নয়ের দশকে কলকাতা লিগ খেলা পোর্ট ট্রাস্ট কিংবা সোনালি শিবিরে তাঁদের থেকে বেটার মিডফিল্ডারের খেলা দেখেছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সিন্দুক থেকে প্ল্যান ‘বি’ বার করলেন লোবেরা। এক্ষত্রে রবসনকে নামিয়ে পেত্রাতোসকে উইথড্রন ফরোয়ার্ড করে দিলেন তিনি। ৬৪ মিনিটে তিনি হেডে জাল কাঁপালেও তা অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। এই পর্বে বর্ষীয়ান জনি কাউকোর কোমরে হাত পড়তেই ব্যাকফুটে মুম্বই। কিন্তু এই মোহন বাগানের আক্রমণে কার্যকারিতার বড়ই অভাব।

    এদিকে, ম্যাচ শেষে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন মোহন বাগানের শুভাশিস বসু এবং মুম্বইয়ের বিক্রমপ্রতাপ সিং। দুই কোচ এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। আপাতত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অনুশীলনে ছুটি দিলেন লোবেরা।

    মোহন বাগান: বিশাল, অভিষেক, মেহতাব (মনবীর), আলবার্তো, শুভাশিস, অনিরুদ্ধ (দীপক টাংরি, সাহাল), আপুইয়া, লিস্টন, পেত্রাতোস, কামিংস (রবসন) ও ম্যাকলারেন।
  • Link to this news (বর্তমান)