• ‘ছদ্মবেশী’কে নিয়ে ক্ষোভ, প্রচারে লোক চান তৃণমূল প্রার্থী
    এই সময় | ২১ মার্চ ২০২৬
  • দিগন্ত মান্না পাঁশকুড়া

    টানা দশ বছর পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভার (Panshkura West Assembly) বিধায়ক ছিলেন নন্দীগ্রামের ‘শহিদ মাতা’ বাসিন্দা ফিরোজা বিবি। কিন্তু এ বার প্রার্থী বদলের আঁচ পেয়ে কোনও ভূমিপুত্রকে এখানে টিকিট দেওয়ার দাবিতে সরব ছিলেন তৃণমূলের কর্মী–সমর্থকরা। কিন্তু পাঁশকুড়া পশ্চিমের প্রার্থী হিসেবে সিরাজ খানের নাম ঘোষণা হতেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে দলের অন্দরে। বহিরাগত, দলবদলু সিরাজকে প্রার্থী হিসেবে মানতে নারাজ তৃণমূলের একাংশ।

    গ্রাহকের ছদ্মবেশে রেশন ‘দুর্নীতি’ ধরা, কিংবা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখোশ পরে দর্শক আসন থেকে মঞ্চে উঠে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেওয়া––সিরাজ খানের অভিনয়ের সঙ্গে অভ্যস্ত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মানুষজন। পেশায় ব্যবসায়ী সিরাজ ২০১৬ সালে নন্দকুমার বিধানসভা থেকে নির্দল হিসেবে তৃণমূলের সুকুমার দে’র বিরুদ্ধে ভোটে লড়ে হেরে যান। ২০১৮–র পঞ্চায়েত নির্বাচনে পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভার ১২ নম্বর জেলা পরিষদ আসনে তৃণমূলের টিকিটে জিতে জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ হন। বিভিন্ন সময়ে ছদ্মবেশে জেলার বিভিন্ন রেশন দোকানে অভিযান চালাতে দেখা যেত তাঁকে।

    মেচেদায় (Mecheda) সিরাজ খানের একটি গেস্ট হাউস রয়েছে। মাঝেমধ্যে সেখানে বিজেপির শীর্ষ স্থানীয় অনেক নেতা এসে উঠতেন। ২০১৯-এর জুন মাসে সেই গেস্ট হাউসে এসেছিলেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। ২০২০–র ২৫ নভেম্বর মেচেদায় কৈলাস বিজয়বর্গীর হাত থেকে বিজেপির পতাকা নিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন সিরাজ। কিন্তু সেই সখ্য ভাঙতে সময় লাগেনি। মাস দু’য়েক পরেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে কামব্যাক হয় সিরাজের। তবে তৃণমূলে এলেও গত পাঁচ বছরে সিরাজকে দলীয় কোনও কর্মসূচিতে বিশেষ দেখা যায়নি।

    এ বার এই কেন্দ্রে দল তাঁকে প্রার্থী করায় ক্ষুব্ধ তৃণমূলের একাংশ। পাঁশকুড়ার এক তৃণমূল নেতা বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম কোনও ভূমিপুত্রকে দল টিকিট দিক। উল্টে সিরাজ খানের মতো এক জন দলবদলু বহিরাগতের উপরে ভরসা করল দল। আমাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া হলো।’ যদিও ক্ষোভ সামাল দিতে তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিতকুমার রায় বলেন, ‘কে প্রার্থী হলেন, সেটা বিষয় নয়। দলীয় প্রতীককে আমাদের জেতাতে হবে।’ সিরাজের বক্তব্য, ‘দল আমার উপর ভরসা রাখায় আমি খুশি। জয়ের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।’

    যদিও একেবারের নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না তিনি।কারণ নাম ঘোষণার পরে পাঁশকুড়ায় এলেও স্থানীয় কোনও নেতাকে তাঁর পাশে দেখা যায়নি। প্রচারে নেই নন্দকুমার মিশ্র, সুমনা মহাপাত্র, শেখ সমীরুদ্দিনের মতো প্রথম সারির নেতারা। বহিরাগত প্রশ্নে সিরাজের বিরুদ্ধে ফেসবুকে তোপ দেগেছেন তৃণমূল নেতা আনিসুর রহমানও। সেখানে লিখেছেন, ‘২০১৬ থেকে পাঁশকুড়ার উপর অন্যায় চলছে—সবাই দেখেছে, কিন্তু বলেনি। আমি চুপ থাকার লোক নই। প্রতিবাদ করেছি, করছি, করব। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব লড়াই চলবে।’ পাঁশকুড়ায় দলের নিচুতলার কর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে সরব। এই অবস্থায় প্রচারে দলের কতখানি সাহায্য পাবেন, তা নিয়ে সন্দিহান সিরাজ বলেন, ‘আমি সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এখনও সেভাবে প্রচার শুরু হয়নি। জেলা সভাপতিকে বলেছি নেতৃত্বকে আমার সঙ্গে প্রচারে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে।’ সুজিত বলেন, ‘পাঁশকুড়া পশ্চিমে এ বার লড়াই কঠিন হবে। সবাইকে নিয়ে প্রচার শুরু হবে।’

    পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সিন্টু সেনাপতির কটাক্ষ, ‘এতেই বোঝা গেল, পাঁশকুড়ায় তৃণমূলের কোনও যোগ্য নেতা নেই। বাইরে থেকে প্রার্থী আনতে হলো। পাঁশকুড়ার মানুষ এ বার বিজেপিকেই বেছে নেবে।’

  • Link to this news (এই সময়)