এই সময়, নয়াদিল্লি: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) (Chief Election Commissioner) এবং অন্য কমিশনারদের (ইসি) নিয়োগ আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলি৷ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন এই মামলার শুনানি এমন বেঞ্চ করবে, যেখানে অদূর ভবিষ্যতে প্রধান বিচারপতি হওয়ার তালিকাভুক্ত কোনও বিচারপতিও থাকবেন না৷ নিরপেক্ষতার কথা মাথায় রেখেই শীর্ষ আদালতের এই অবস্থান, জানিয়েছেন সিজেআই কান্ত৷ আগামী ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নবগঠিত একটি বেঞ্চে হবে এই মামলার শুনানি, নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত৷ পশ্চিমবঙ্গ–সহ পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নিয়ে এসেছে বিরোধীরা। পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা নিয়েও কমিশনের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হচ্ছে রোজই। তার মধ্যে সিইসি নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা থেকে সিজেআই এবং পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হতে পারেন এমন বিচারপতিদের সরে দাঁড়ানোর ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
আইনজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, যেহেতু সিজেআই–কে এই কমিটিতে রাখা নিয়েই মামলা হয়েছে, তাই বর্তমান প্রধান বিচারপতি বা অদূর ভবিষ্যতে যাঁরা প্রধান বিচারপতি হতে পারেন, তাঁদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হলে সেক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত হতে পারে বলে মনে করেছে বেঞ্চ।
‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কন্ডিশন অফ সার্ভিস এবং টার্ম অফ অফিস অ্যাক্ট ২০২৩’ অনুযায়ী দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার–সহ অন্য কমিশনারদের নিয়োগের জন্য যে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র, সেখানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে একজন ক্যাবিনেট স্তরের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ এই উচ্চ পর্যায়ের কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন প্রধানমন্ত্রী এবং লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিরোধী দলের নেতা৷ মোদী সরকার প্রণীত এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে শীর্ষ আদালতে দায়ের করা হয়েছে একাধিক মামলা৷ কংগ্রেস নেত্রী জয়া ঠাকুর, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস’ (এডিআর)–সহ মামলাকারীরা সবাই আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন৷ শুক্রবার এই মামলার শুনানি নির্ধারিত ছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে৷
এ দিন সেই মামলার শুনানির শুরুতেই ‘স্বার্থের সংঘাতে’র (কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট) সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন সিজেআই কান্ত৷ তাঁর কথার সূত্রেই মামলাকারীদের তরফে বর্ষীয়ান আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, ‘আমার মতে, এই মামলাটির শুনানি এমন একটি বেঞ্চে স্থানান্তর করা ভালো হবে, যেখানে কোনও সম্ভাব্য প্রধান বিচারপতি থাকবেন না৷’ এই সওয়ালকে মান্যতা দিয়ে সিজেআই কান্ত বলেন, ‘আমি এমন একটি বেঞ্চে এই মামলাটি স্থানান্তর করব যেখানে কোনও সম্ভাব্য প্রধান বিচারপতি থাকবেন না৷ তা হলে কেউ কিছু বলতে পারবেন না৷’ ঘটনাচক্রে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর সঙ্গে এ দিন বেঞ্চে উপস্থিত দুই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুলএম পাঞ্চোলি দু’জনেই ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় আছেন৷ এই কারণেই নতুন যে বেঞ্চ গঠিত হবে সেখানে এই দুজন বিচারপতি থাকবেন না বলেই মনে করছে শীর্ষ আদালতের আইনজীবী মহল৷