এই সময়: বেশ কয়েক মাস ধরে যে ওঁদের কাজের উপর নজরদারি করা হচ্ছিল, সেটা ওঁরা একটুও বুঝতে পারেননি। পারলে হয়তো সতর্ক হতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ পেলেন না। একদিন নিজের কেবিনে বসার কিছুক্ষণ পরেই তলব পড়ল ঊর্ধ্বতন কর্তার ঘরে। জানিয়ে দেওয়া হলো, বেশ কয়েক মাস ধরেই তাঁরা ‘কাজের কাজ’ কিছু করেননি। তাই স্বেচ্ছা–অবসরের জন্য তাঁদের কথা ভাবা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইন্ডিয়ান রেলওয়ে এস্ট্যাবলিশমেন্ট কোড (Indian Railway Establishment Code) (আইআরইসি)–র ভল্যুম ২–এর রুল ১৮০২(ক) অনুযায়ী এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই আইনের বলে ভারতীয় রেলের নর্দার্ন জ়োন, সাউথ ওয়েস্টার্ন জ়োন (South Western Zone), সাউথ–ইস্ট সেন্ট্রাল জ়োন এবং ইস্টার্ন জ়োন থেকে একজন করে ও রেলওয়ে বোর্ড সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস (Railway Board Secretariat Service) থেকে দু’ই পদস্থ আধিকারিক মিলিয়ে মোট ছ’জনকে স্বেচ্ছা–অবসর নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মস্থলে এসে কর্তব্যে অবহেলার মতো বিষয়কে কোনও ভাবেই বরদাস্ত না করার নির্দেশ এসেছে খোদ রেল বোর্ডের কর্তাদের থেকে। তাই প্রতি জ়োনের প্রতিটি ডিভিশনের কর্মীদের উপরেই চলছে নজর রাখার কাজ। রেলের কর্তারা জানিয়েছেন, ওই ১৮০২(ক) রুলটি প্রশাসনকে জনস্বার্থে কোনও আধিকারিককে অবসর দেওয়ার ক্ষমতা দেয়। এমন পদক্ষেপের মাধ্যমে কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সংস্থার কোনও স্তরেই অদক্ষতা বা কাজের ক্ষেত্রে গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পরিষেবার মান পূরণে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে অর্থাৎ তাঁদের বিন্দুমাত্র রেয়াত করা হবে না।
কর্মস্থলে কাজে অবহেলার পাশাপাশি ভারতীয় রেলের প্রতিটা জ়োনেই এমন অনেক কর্মী রয়েছেন যাঁরা অফিসে অত্যন্ত অনিয়মিত। এই ধরনের কর্মীদেরও চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন রেলের কর্তারা। জানা গিয়েছে, প্রতি কর্মীর নামেই আলাদা করে ফাইল তৈরি হয়েছে, যে ফাইলে তাঁদের কাজের দায়িত্ব এবং প্রতিদিন কতটা কাজ করছেন — তার পুরো তথ্য লেখা থাকছে।