পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এরই মধ্যে ভারতে প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম বেড়েছে। ঠিক এই সময়েই অন্তর্দেশীয় বিমানের ভাড়ায় ক্যাপিং তুলে নিল কেন্দ্র। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইন্ডিগোর বিমান পরিবহণে বিভ্রাট এবং লাগাতার বিমান বাতিলের জেরে তুমুল ভাড়া বেড়েছিল। সেই সময়ে এই ক্যাপিং চালু করেছিল কেন্দ্র।
শুক্রবার বিমান মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে অন্তর্দেশীয় বিমানের ভাড়ায় ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়ার বিষয়টি। ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে অস্থায়ী এই ক্যাপিং চালু করেছিল কেন্দ্র। রকেটগতিতে টিকিটের দাম বৃদ্ধির জেরে যাত্রীদের যাতে সমস্যা না হয় তার জন্য এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। বিমান মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এখন ওই পরিস্থিতি আর নেই। ফ্লাইট অপারেশনে অনেক স্থিতিশীলতা এসেছে। সেই কারণেই ২৩ মার্চ থেকে বিমান ভাড়ায় ক্যাপিং তুলে দেওয়া হলো।
যদিও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ক্যাপিং তুলে দেওয়া হলেও এয়ারলায়েন্সগুলি যেন ভাড়ার ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলে। ফ্লাইটের টিকিটের দাম যেন যৌক্তিক হয়, দামের ক্ষেত্রে যেন স্বচ্ছতা বজায় থাকে। বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য পূর্ণও যেন হয়, সেটাও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এরই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি ফের ফ্লাইটের টিকিটের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায় (বিশেষ বিশেষ কোনও সময়ে), তাহলে সেটাও নজরদারির আওতায় পড়বে। বিমান মন্ত্রক নিয়মিত ফ্লাইটের টিকিটের দামে নজরদারি চালাবে বলে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি টিকিটের দামে ক্যাপিং তোলার জন্য একসঙ্গে আবেদন করা হয়েছিল ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া ও স্পাইসজেটের তরফে। এয়ারলাইন্সগুলির দাবি ছিল, এই ক্যাপিং না তুললে বিমান চলাচলে সমস্যা হবে। এমনিতেই অপারেশন সিন্দুরের পর থেকে পাকিস্তানি এয়ারস্পেস ব্যবহার করতে পারে না ভারতীয় ফ্লাইট। তারই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। সব মিলিয়ে ক্যাপিং রেখে দিলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা চালাতে ঘোরতর সমস্যা হবে বলে এয়ারলাইন্সগুলির তরফে বলা হয়েছিল।