• পণের দাবিতে স্ত্রীকে বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে খুনের অভিযোগ, বিয়ের ৪ মাসের মাথায় মর্মান্তিক পরিণতি
    এই সময় | ২২ মার্চ ২০২৬
  • বিয়ের পর থেকেই নেশার টাকা চেয়ে অত্যাচার করতেন বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত বিষ ইঞ্জেকশন (poison) দিয়ে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। শনিবার উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) গুরুগ্রামের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্ত্রী কাজল শর্মাকে (২৩) খুনে অভিযুক্ত অরুণ শর্মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শৌচাগার থেকে উদ্ধার হয়েছে ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জও। পণের দাবিতেই (dowry harassment) এই খুন বলে অভিযোগ মৃতার পরিবারের।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অরুণ শর্মা পেশায় রেডিওলজিস্ট। গুরুগ্রামের একটি নার্সিংহোমে কাজ করতেন তিনি। সেখানেই নার্স ছিলেন কাজল। কর্মসূত্রেই তাঁদের পরিচয়। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গাঢ় হয়। বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে পড়েন দু’জনে। গত নভেম্বরে গাঁটছড়া বাঁধেন তাঁরা। কাজলের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে কাজলের উপরে শারীরিক নির্যাতন করতেন অরুণ।

    দোলের দিন গুরুগ্রামের গারহি হরসরু এলাকায় বাপের বাড়ি যান কাজল। তার পর থেকে সেখানেই থাকছিলেন। অভিযোগ, গত ১৭ মার্চ সেখানে পৌঁছন অরুণ। তার পরে মদ্যপ অবস্থায় কাজলকে বেধড়ক মারধর করেন। পরের দিন সকালে ফের বচসা হয় দু’জনের। দুপুরে কাজলের অচৈতন্য দেহ উদ্ধার করে তাঁর বাড়ির লোক।

    সঙ্গে সঙ্গে কাজলকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ঘটনার পরেই পালিয়ে যান অরুণ। তদন্তে নেমে শনিবার তাঁকে গাজিয়াবাদ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কাজলের বাবার বাড়ির শৌচাগার থেকে একটি ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ এবং অ্যানাস্থেটিক অ্যাম্পুল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তে কাজলের শরীরে ইঞ্জেকশনের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    জেরার মুখে অভিযুক্ত খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন বলে দাবি করেন গুরুগ্রামের সেক্টর ১০ থানার অফিসার কুলদীপ সিং। তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

  • Link to this news (এই সময়)