• আফ্রিকায় ২ কোটি খুইয়ে দুবাই থেকে ১০০ কোটির সোনা পাচার! এক ‘গ্ল্যামার কুইন’-এর থ্রিলার কাহিনি
    এই সময় | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • তিনি সিনেমা জগতের মানুষ, ‘গ্ল্যামার কুইন’। কিন্তু তাঁর নিজের জীবনের কাহিনি এমনই যে কোনও লেখক চিত্রনাট্য হিসেবে লেখার আগেও দু’বার ভাববেন। গ্ল্যামার দুনিয়ার ঝলমলে আলো থেকে সোজা ১০০ কোটি টাকার সোনা পাচারের অন্ধকার জগতে। কথা হচ্ছে কানাড়া অভিনেত্রী রান্যা রাও-কে নিয়ে।

    গত বছরের মার্চেই দুবাই থেকে ভারতে সোনা পাচার করতে গিয়ে বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন তিনি। চলতি সপ্তাহের বুধবার এই মামলার চার্জশিট পেশ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED। পর্দাফাঁস হয়েছে এক আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের। চার্জশিটে রান্যার পাশপাাশি উঠে এসেছে তাঁর সহযোগী তরুণ কোন্দুরু এবং বেঙ্গালুরুর বল্লারি এলাকার এক সোনা ব্যবসায়ী, সাহিল সাকারিয়া জৈনের নাম।

    ED সূত্রে জানা গিয়েছে, রান্যা এবং তরুণ কোন্দুরু প্রথমে আফ্রিকা থেকে সোনা পাচারের ছক কষেছিলেন। দুবাইয়ে একটি ট্রেডিং সংস্থা খুলে ‘বেন’ নামে উগান্ডার এক এজেন্টের সঙ্গে ৫ কেজি সোনা কেনার চুক্তিও করেছিলেন তাঁরা। অগ্রিম হিসেবে ২৩.৫ লক্ষ টাকা এবং কর বাবদ আরও ১৮.৮ লক্ষ টাকা মেটান। কিন্তু সেই সোনা আসেনি!

    ২০২৪-এর জানুয়ারিতে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় গিয়েছিলেন তরুণ। তাঁর কাছে আরও ১.৭ কোটি টাকা দাবি করা হয়। তখনই তাঁরা বুঝেছিলেন সোনা পাচার করতে গিয়ে নিজেরাই এক প্রতারণা চক্রের হাতে পড়েছেন। শুরুতেই ২ কোটি টাকার বেশি টাকা খোয়ান অভিনেত্রী।

    আফ্রিকায় ধাক্কা খেয়ে রান্যার নজর ঘুরেছিল দুবাইয়ের দিকে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোনার বাজার, ‘দেইরা গোল্ড সুক’ থেকে নগদ টাকায় সোনা কিনতেন তিনি। তরুণ কোন্দুরু ভুয়ো কাস্টমস ডিক্লারেশন তৈরি করে দেখাতেন যে সেই সোনা সুইৎজ়ারল্যান্ড বা থাইল্যান্ডে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে, রান্যা সেই সোনা নিজের পোশাকের ভিতরে লুকিয়ে সোজা নিয়ে আসতেন ভারতে!

    ED-র চার্জশিট অনুযায়ী, ২০২৪-এর মার্চ থেকে ২০২৫-এর মার্চের মধ্যে অর্থাৎ, এক বছরে অন্তত ১৫ বার বেঙ্গালুরু থেকে দুবাই যাতায়াত করেছিলেন রান্যা। আর এ ভাবে প্রায় ১০২ কোটি টাকা মূল্যের ১২৭.৮৭ কেজি সোনা পাচার করেছিলেন তিনি। যা পরে ভারতের বিভিন্ন গয়না ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হতো ।

    কী ভাবে বারবার কাস্টমসের চোখ এড়িয়ে যেতেন তিনি? তদন্তকারীদের মতে, রান্যার সৎ বাবা পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্তা। কর্নাটক পুলিশের ডিজি ব়্যাঙ্কের অফিসার ছিলেন। সেই ভিআইপি প্রভাব খাটিয়েই বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে কাস্টমস চেকিং ছাড়াই সহজে পার পেয়ে যেতেন তিনি। শেষমেশ বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরেই ১২.৫৬ কোটি টাকার ১৪.২ কেজি সোনার বার-সহ ধরা পড়েছিলেন তিনি।

    ইতিমধ্যেই রান্যার ৩৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। এই বিরাট সোনা পাচার চক্রের গভীরে পৌঁছতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তারা।

  • Link to this news (এই সময়)