• দিল্লি থেকে কাশ্মীর, পাকিস্তানের ৫০টি গোপন ‘চোখ’! মাস্টারমাইন্ড নওশাদ, মহিলা-সহ গ্রেপ্তার ১৪
    এই সময় | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ফের দেশের অন্দরে ধরা পড়ল পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা ISI-এর জাল! বেঙ্গালুরুর পরে এ বার গাজ়িয়াবাদ। ভারতীয় সেনার গোপন গতিবিধি এবং কী কী অস্ত্রশস্ত্র কোথায় কোথায় যাচ্ছে, তার লাইভ ফুটেজ পাকিস্তানে পাচারের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ধৃতদের মধ্যে একজন মহিলা এবং একজন নাবালকও রয়েছে। এই চক্রটি দেশের বৃহত্তম স্পাই মডিউলগুলির একটি বলে অনুমান তদন্তকারীদের।

    তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, নওশাদ আলি নামে এক ব্যক্তি এই চক্রের মাস্টারমাইন্ড। সে মূলত মোবাইল রিপেয়ারিং, কম্পিউটার এবং সিসিটিভি (CCTV) ব্যবহার ও সারাইয়ে দক্ষ, দরিদ্র পরিবারের যুবকদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এই দলে টানত।

    পুলিশের চোখ এড়াতে এই চক্রে সুকৌশলে মহিলাদেরও ব্যবহার করা হতো। ধৃতদের মধ্যে মীরা নামে এক মহিলা রয়েছে, যাকে এর আগে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল।

    এই স্পাই রিংয়ের কাজের ধরন বেশ অভিনব এবং বিপজ্জনক। দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এবং সোনিপত রেলওয়ে স্টেশনের মতো সেনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে তারা গোপনে CCTV ক্যামেরা লাগিয়েছিল। এই ক্যামেরাগুলির মাধ্যমে ভারতীয় সেনার রুট, সৈন্য এবং অস্ত্রশস্ত্রের গতিবিধির লাইভ ফুটেজ সরাসরি পাকিস্তানে থাকা ISI হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হতো। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ভিডিয়ো ক্লিপ পাঠানোর জন্য তারা ১০,০০০ টাকা করে পেত।

    ‘ইন্ডিয়া টুডে’ পোর্টালের রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লি থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত, সেনার যাতায়াত করে এমন অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে প্রায় ৫০টি গোপন ক্যামেরা স্থাপন করার পরিকল্পনা করেছিল চক্রটি। এর জন্য অনলাইনে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল ISI। কিন্তু তার পরেও তারা ক্যামেরাগুলি ঠিকমতো বসাতে পারছিল না।

    অগত্যা গাজ়িয়াবাদের কৌশাম্বী এলাকায় তারা স্থানীয় CCTV মেরামতকারীদের খোঁজ শুরু করে। এই অদ্ভুত খোঁজখবরই কৌশাম্বী থানার এক বিট কনস্টেবলের নজরে পড়ে যায়। তাঁর তৎপরতাতেই পুলিশ সন্দেহভাজনদের তুলে এনে জেরা করে এবং এত বড় ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস হয়েছে।

    ধৃতদের কাছ থেকে পুলিশ বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। এই ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।

  • Link to this news (এই সময়)