• অনুদানে সোনা-রুপো, গবাদি পশুও! যুদ্ধবিধ্বস্ত তেহরানের পাশে দাঁড়ালেন কাশ্মীরের শিয়া মুসলিমরা
    এই সময় | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • চতুর্থ সপ্তাহে পড়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। যত দিন গড়াচ্ছে, যুদ্ধের ঝাঁঝ কমার তো কোনও লক্ষণই নেই, উল্টে ক্রমেই বাড়ছে উত্তাপ। রবিবার রাত থেকেই ইজ়রায়েল ইরানের একাধিক শহরে হামলা শুরু করেছে। চার সপ্তাহের এই যুদ্ধে ইরানে বসবাসকারী বহু শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিম নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মাথার উপরে ছাদ হারিয়েছেন অনেকেই। জীবন-জীবিকা উপার্জনের একমাত্র উপায় গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের শিয়া মুসলিমদের পাশে দাঁড়ালেন ভারতের কাশ্মীরের শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। ইরানে ত্রাণ পাঠানোর জন্য চাঁদা তুলতে শুরু করেছেন তাঁরা।

    শুধুই টাকাপয়সা নয়, সোনা-রুপো, তামার মতো মূল্যবান ধাতুর জিনিসও দান করছেন অনেকে। সংবাদ সংস্থা ANI এবং Economics Times-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইদের পরের দিন থেকেই বাদগাম, বারামুল্লা-সহ একাধিক শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় অনুদান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। যুবকরা কাশ্মীরের শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বাড়ি বাড়ি ঘুরে অনুদান সংগ্রহ করছেন। টাকাপয়সা, সোনা-রুপোর গয়না, এমনকি তামার জিনিসও অনুদান হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।

    India today-র রিপোর্ট অনুযায়ী, এক কাশ্মীরি মহিলা তাঁর নিজের সব গয়না দান করেছেন। জানা গিয়েছে, ওই গয়নাগুলি স্বামীর শেষ স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছিলেন ওই মহিলা। অনেক জায়গায় টাকাপয়সা বা গয়না নয়, গবাদি পশুও অনুদান হিসেবে দিচ্ছেন স্থানীয়রা। বেশ কিছু এলাকায় মসজিদের তরফেও এই কাজ করা হচ্ছে। এই অনুদান পর্বে এগিয়ে এসেছে নাবালকরাও। ইদ উপলক্ষে পাওয়া উপহার কিংবা নিজেদের জমানো টাকাও দান করছে তারা।

    এই মানবিক কাজে এগিয়ে এসেছেন বাদগামের MLA মুন্তাজির মেহেদি। তিনি জানান, অনুদান বাবদ তাঁর একমাসের মাইনে তিনি দিয়ে দেবেন। তাঁর কথায়, ‘মানবতার চেয়ে আর বড় কোনও ধর্ম নেই।’

    ইরানের দূতাবাসের মাধ্যমে এই অনুদান পাঠানো হচ্ছে। ভারতীয় শিয়া মুসলিমদের এই পদক্ষেপে আপ্লুত ইরানের দূতাবাস। ভারতের নাগরিকদের এই অবদান ইরান কখনও ভুলবে না, একটি বিবৃতিতে এমনটাই জানানো হয়েছে ইরানের দূতাবাসের তরফে।

  • Link to this news (এই সময়)