রূপক মজুমদার, পাটনা
নেই বাণিজ্যিক সিলিন্ডার (Commercial Cylinder)। তিন দিন আগেই ঘরোয়া গ্যাস না–মেলায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পাটনা শহরের মা পতনদেবী গ্যাস এজেন্সি এবং কঙ্করবাগের আর একটি এজেন্সি থেকে সিলিন্ডার লুট করে নিয়ে গিয়েছেন। রীতিমতো আতঙ্ক এবং উদ্বেগের ছবি পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্যে। এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে আগামীতে আরও কী ভয়াবহ ছবি অপেক্ষা করে রয়েছে, তা ভাবতে বসে হোটেল–রেস্তোরাঁর মালিক থেকে সাধারণ মানুষের চোখমুখে অজানা ভয়ের আনাগোনা।
শহরের বেশিরভাগ হোটেল ও রেস্তোরাঁ হিমশিম খাচ্ছে গ্রাহকদের খাবার সরবরাহ করতে গিয়ে। সম্প্রতি গ্যাস সিলিন্ডার লুটের পরে এজেন্সিগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ বার ডোমেস্টিক সিলিন্ডার থানা থেকে দেওয়া হবে। তা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। শনিবার ছিল ইদ। কঙ্করবাগ এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের তত্ত্বাবধানে সিলিন্ডার দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে। পাটনা শহরের জক্কনপুর থানা এলাকায় পুলিশি প্রহরায় সিলিন্ডার দেওয়া হয়।
এই থানা এলাকারই মিঠাপুরা এলাকায় রয়েছে বেশ কিছু হোটেল। আবাসিকরা এলেই হোটেলের পক্ষে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যতক্ষণ গ্যাস থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত খাবার দেওয়া যাবে! স্থানীয় এক হোটেলের ম্যানেজার অমিত কুমারের মন্তব্য, ‘আমরা সমস্ত অনলাইন বুকিং এজেন্সিগুলিকে ফোন করে জানিয়েছি, এখন শুধুমাত্র হোটেলে থাকা যাবে, খাবার পাওয়ার সুযোগ নিয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি যোগ করলেন, ‘যাঁরা আগে বুকিং করেছিলেন, তাঁদের খাবার দিতে গিয়েই নাজেহাল দশা। কোনওরকমে পেট ভরানোর মতো খাবারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। একটা সিলিন্ডার ৩৫০০ থেকে ৩৭০০ টাকায় কালোবাজারি হচ্ছে। তার উপরে হোটেলে ডোমেস্টিক সিলিন্ডার পেলে ১০–১৫ হাজার টাকা জরিমানার সঙ্গে মামলা করে দিচ্ছে পুলিশ।’
আর এক হোটেলের মালিক শঙ্কর সিং যাদবের মন্তব্য, ‘অনেকেই আগে থেকে বুকিং করেছেন। যাঁরা আসছেন, তাঁদের ঠিক মতো খাবারই দিতে পারছি না। ব্যবসার ভয়ঙ্কর ক্ষতি হচ্ছে।’থানার দু’ধারে, রাস্তার পাশে থাকা প্রচুর ছোট খাবারের দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তেমনই এক ব্যবসায়ী সুন্দর যাদব বললেন, ‘এই সঙ্কটের সমাধান খুব শিগগির না–হলে গোটা শহর জুড়ে সিলিন্ডার লুট হবে। আর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গ্যাস এজেন্সির লোকরা কালোবাজারি শুরু করে দিয়েছেন।’ যোগ করলেন, ‘গ্যাস না–থাকলে তা হলে সেটা বেশি দামে কী ভাবে বিক্রি হচ্ছে?’
ইতিমধ্যে সিলিন্ডার কালোবাজারির দায়ে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কালোবাজারি রুখতে শনিবার জেলাশাসক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। কিন্তু তাতে তো সমস্যার সমাধানসূত্র মিলছে না। বর্ধমান থেকে ছেলেকে নিয়ে মিঠাপুরা থানা এলাকার একটি ল ইউনিভার্সিটিতে যাওয়া এক মহিলা বললেন, ‘হোটেলে বুকিংয়ের সময়ে খাবারের সুবিধা সমেত অন্য বিষয়গুলি ছিল। এসে জানলাম, ওরা খাবার দিতে পারবে না। প্রায় বিকেলের দিকে শুধুমাত্র চাউমিন আর এক প্লেট চিকেন দিল। রাতে বাইরে খেতে হবে। কী ভাবে থাকব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’