• ‘যুদ্ধের সঙ্কট দীর্ঘমেয়াদি...’, দেশের জ্বালানি ও গ্যাস পরিস্থিতি কি উদ্বেগজনক? সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী
    এই সময় | ২৩ মার্চ ২০২৬
  • পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ২৪তম দিনে গড়ালেও সংঘাতের মাত্রা কমার কোনও লক্ষণ নেই। এমন পরিস্থিতি সংসদে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ এবং এর জেরে দেশে কী প্রভাব পড়েছে তা ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অবরুদ্ধ হরমুজ় এবং দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো সতর্কবার্তা শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর মুখে। সংসদে সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেওয়ার সঙ্গে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির স্পষ্ট চিত্রও সংসদে তুলে ধরেছেন তিনি।

    ইরান, ইজ়রায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গেল করোনার সময়ের সঙ্কটের স্মৃতিও। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ হরমুজ় প্রণালী (Strait of Hormuz)। সেই অবস্থার নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখা কিংবা পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানো একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক ভাবে ভারতীয় জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কেন্দ্র লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ তাঁর কথায়, এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, গ্যাস, সার-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ভারতে আসে, ফলে এই রুটে অস্থিরতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিকভাবেই বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গেও যে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তাও জানিয়েছেন।

    সংসদে এদিন নরেন্দ্র মোদী যুদ্ধের প্রভাবের মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ করছে কেন্দ্র তাও জানান। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় গত এক দশকে ভারত বিশেষ ভাবে জ্বালানি সুরক্ষার দিকে জোর দিয়েছে। বর্তমানে দেশের কাছে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি স্ট্র্যাটেজিক পেট্রলিয়াম রিজার্ভ রয়েছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে বড় সহায়ক। শুধু তাই নয়, এই মজুত আরও বাড়িয়ে ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টনে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে।

    সংসদে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘আগে ভারত যেখানে ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করত, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ৪১-এ পৌঁছেছে। অর্থাৎ, আমদানির উৎস বহুমুখী করা হয়েছে, যাতে কোনও একটি অঞ্চলে সঙ্কট তৈরি হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত না হয়।’

    এ ছাড়া সরকার ক্রমাগত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যাতে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়। যদিও হরমুজ় প্রণালীর উপর নির্ভরতা এখনও বড় ফ্যাক্টর, তবুও এই সঙ্কটের মধ্যেও দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি নির্ভর। তাই অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকার গৃহস্থালি গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ যাতে সারা দেশে স্বাভাবিক থাকে, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ভারত জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে বহুমুখী কৌশল নিয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে বড় মজুত গড়ে তোলা, আমদানির উৎস বাড়ানো এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার জোর দিয়ে বলেন যে, ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম বর্তমানে মজুত এবং ৪১টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত আমদানি নেটওয়ার্কের কারণে ভারত জ্বালানি ক্ষেত্রে এখনও সুরক্ষিত। তাঁর কথায়, এখন ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টনে জ্বালানি ভাণ্ডার উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কেন্দ্র।

  • Link to this news (এই সময়)