উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদে পাক যোগ থাকা গুপ্তচরবৃত্তির হদিশ পেল পুলিশ। চক্রের মূল পাণ্ডা-সহ মোট আট জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে এক নাবালকও রয়েছে বলে সূত্রের খবর। পুলিশ জানিয়েছে, চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড নওশাদ আলি ওরফে লালুকে ফরিদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, নওশাদ গত তিন মাস ধরে একটি পেট্রল পাম্পে গাড়ি সারাইয়ের দোকানের আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি চালাত।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নওশাদ মূলত কারিগরি বিদ্যায় দক্ষ তরুণদের এই চক্রে নিয়োগ করত। বিশেষ করে মোবাইল সারাই, কম্পিউটার বা সিসিটিভি-র কাজে যারা পটু, তাদের টাকার টোপ দিয়ে ফাঁদে ফেলা হতো। এর আগে এই ঘটনায় ১৪ মার্চ সোহেল মালিক এবং মেহেক নামে এক মহিলা-সহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তারা পাক ISI-এর মদত পুষ্ট বলে সূত্রের খবর। এমনকী সন্দেহ এড়াতে এই চক্রে মহিলাদেরও ব্যবহার করা হতো বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ধৃতরা রেল স্টেশন এবং এ দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গার ছবি ও ভিডিয়ো হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠাত। প্রতিটি ছবির জন্য তারা ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা করে পেত। আরও অভিযোগ, দিল্লির ক্যান্টনমেন্ট রেল স্টেশন এবং সোনিপত রেল স্টেশনের মতো কৌশলগত এলাকায় তারা লুকিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিল। এই ক্যামেরাগুলোর লাইভ ফিড সরাসরি পাকিস্তান থেকে দেখা যেত। এর মাধ্যমে সেনার গতিবিধি ও অস্ত্রশস্ত্রের যাতায়াতের উপর নজরদারি চলত।
পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত প্রায় ৫০টি এই ধরনের গোপন ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। ইতিমধ্যেই চিহ্নিত জায়গাগুলো থেকে ক্যামেরা উদ্ধার করে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।