সাম্প্রতিক সময়ে ভোট আসলেই বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে। বিশেষ করে বিহারের ভোট দিয়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR শুরুর পরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগের তালিকাটা ক্রমেই দীর্ঘ হয়েছে। বারবার অভিযোগ উঠেছে শাসক দলের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে কমিশন। এ বার বাংলা-সহ ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে, কমিশনের জারি করা নির্দেশিকাতেই দেখা গেল BJP-র সিলমোহর। স্বাভাবিক ভাবেই এই নথি প্রকাশ্যে আসতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা।
এই বিষয়টি নিয়ে প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তি জানায় CPI(M)-এর কেরালা শাখার পক্ষ থেকে। তাদের অভিযোগ, BJP ও নির্বাচন কমিশনের আঁতাত এখন আর গোপন নেই। কোনও রাখঢাক নেই। তারা আরও বলেছে, EVM-এ যে কোনও বোতাম চাপলে ‘পদ্ম’ চিহ্নে ভোট যাওয়ার পুরোনো অভিযোগের পরে, এই অভূতপূর্ব ঘটনা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।
এর পরে ভাইরাল হওয়া ওই নথির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। তৃণমূলের শেয়ার করা নথিটিতে দেখা যাচ্ছে BJP-র কেরালা শাখার সিলমোহরের ছাপ। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, এই নথিতেই দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেল যে, নির্বাচন কমিশন আসলে BJP-র ‘বি-টিম’। তাদের অভিযোগ, দেশের শাসকদল এবং নির্বাচন কমিশন যে একই জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, এই ঘটনাই তার অকাট্য প্রমাণ।
বিতর্ক দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই কেরালার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর থেকে এই বিষয়ের সাফাই দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের ওই বিবৃতি অনুযায়ী, এটি নিছকই একটি ‘Clerical error’ অর্থাৎ, কেরানির ভুল। কমিশনের ব্যাখ্যা, সম্প্রতি BJP-র কেরালা শাখার পক্ষ থেকে ২০১৯ সালের প্রার্থীদের অপরাধমূলক রেকর্ড সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকার বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল।
আবেদনের সঙ্গে তারা পুরোনো নির্দেশিকার যে ফটোকপিটি জমা দিয়েছিল, তাতেই বিজেপির নিজস্ব সিল মারা ছিল। নজরদারির অভাবেই নাকি ভুল করে BJP-র সিল থাকা ওই কপিটিই অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনে কমিশনে কাজ করা এক কেরানি কী ভাবে এই ভুল করলেন, তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন যাচ্ছে না।
কমিশন জানিয়েছে, এই ত্রুটি নজরে আসতেই গত ২১ মার্চ ডেপুটি চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার নোটিস দিয়ে ওই ভুল নথিটি সমস্ত জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর আবেদনও করেছে কমিশন। কিন্তু তাতে কি বিতর্ক ধামাচাপা দেওয়া যাবে?