• চিত্তরঞ্জন থেকে চেন্নাই — ‘কভার সং’ গেয়েই রহমানের দরবারে বাংলার শাওনি
    এই সময় | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • যাপনে গান ছিলই। সঙ্গীতের পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে টুকটাক গান গেয়ে পোস্টও করতেন। সেই সূত্রেই এআর রহমানের সঙ্গে পরিচয়। তার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। চিত্তরঞ্জন থেকে সোজা মুম্বই। পরে চেন্নাইও। বাঙালির ঘরের মেয়ে শাওনি মজুমদারের এই বলিউড যাত্রার কাহিনিই শুনল এই সময় অনলাইন।

    এই সময় অনলাইন : এআর রহমানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

    শাওনি মজুমদার : এক কথায় অপূর্ব। আমার তো মাঝে মাঝে বিশ্বাসই হয় না। রবিবার (২২ মার্চ) বেঙ্গালুরুর এম.এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে চেন্নাই সুপারকিংসের একটা প্র্যাকটিস সেশন ছিল। সেখানে রহমান স্যরের সঙ্গে আমার একটা পারফর্মেন্স ছিল। তবে এটা প্রথম নয়...

    এই সময় অনলাইন : তা হলে?

    শাওনি মজুমদার : আমি তো ওঁর সঙ্গে আগেও অনুষ্ঠান করেছি। ওঁর ডিভোশনাল ব্যান্ড ‘রুহ-ই-নুর’-এ নিয়মিত পারফর্ম করি আমি।

    এই সময় অনলাইন : শুরুটা একটু বলো?

    শাওনি মজুমদার : আমি আসলে ছোট থেকেই নানা ধরনের গান গাইতাম। তার পর সেগুলো রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতাম। এটা করতে করতেই একদিন হঠাৎ রহমান স্যরের টিম থেকে ফোন এল।

    এই সময় অনলাইন : বলিউডে প্রথম প্লেব্যাক কি ‘কেরালা স্টোরি ২’তেই?

    শাওনি মজুমদার : হ্যাঁ, প্রথম প্লেব্যাক 'কেরালা স্টোরি ২’তেই একটা রাজস্থানি লোকগান গেয়েছিলাম মান্নান শাহের পরিচালনায়। প্রথম গানের প্লেব্যাক বলতে সেটাই। ‘থারি যোগন’ গানটা কিন্তু এখন ট্রেন্ডিং-এ রয়েছে। তবেই বলিউডে প্রথম কাজ কিন্তু রহমান স্যরের সঙ্গেই। ‘ছাবা’-তে আমি ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের জন্য প্রচুর ভোকাল ডিজ়াইনিং করেছি। একটা গানও গেয়েছিলাম। কিন্তু ফাইনালি সেটা রাখা হয়নি। তার অনেক পরে ‘কেরালা স্টোরি ২’-র কাজটা আসে।

    এই সময় অনলাইন : তুমি তো বাংলাতেও একাধিক প্লেব্যাক করেছো। ‘গুলদস্তা’ ছবিতে শুভা মুদগলের বদলে তুমি গেয়েছিলে শুনেছি...

    শাওনি মজুমদার : হ্যাঁ, বাংলায় ওটাই আমার প্রথম প্লেব্যাক। অর্জুন দত্তের ছবি ‘গুলদস্তা’। জানো তো, আমি গানটার স্ক্র্যাচ গেয়েছিলাম। আসল গানটা শুভা মুদগলজির গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছবির ডিরেক্টর, প্রোডিউসার, মিউজ়িক ডিরেক্টর — সকলেরই আমার গাওয়া ‘রঙ্গ রসিয়া’ গানটা খুব ভালো লেগে যায়। ব্যস, যা হয় আর কী! তার পর সঙ্গীত পরিচালক রণজয় ভট্টাচার্যের সঙ্গে আমার আলাপ হয়। বাংলায় বেশির ভাগ কাজ আমি ওঁর সঙ্গেই করেছি।

    এই সময় অনলাইন : তোমার তো বেড়ে ওঠা চিত্তরঞ্জনে...

    শাওনি মজুমদার : হ্যাঁ, আমি কলকাতার মেয়ে নই। কর্মসূত্রে মাকে চিত্তরঞ্জনে থাকতে হতো। তাই আমি আর দিদি আর মায়ের সঙ্গেই থাকতাম। বাবাকে চাকরিসূত্রে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন জেলায় ঘুরতে হয়েছে। তাই আমরা মায়ের সঙ্গেই বেশি সময় কাটিয়েছি।

    এই সময় অনলাইন : তার পর মুম্বই কবে গেলে?

    শাওনি মজুমদার : স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে কলকাতা চলে গিয়েছিলাম। বাবা চেয়েছিলেন ডাক্তার হই। কিন্তু আমি জয়েন্ট পরীক্ষা দিতে গিয়ে ঘুমিয়ে কাটিয়ে ছিলাম। ফলে ক্লিনিক্যাল ‘নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিক্স’ নিয়ে গোখেল মেমোরিয়াল কলেজে ভর্তি হতে হলো। পাশাপাশি গান শেখাও চলছিল। তার পর ন্যাশনাল স্কলারশিপ পেলাম। মাস্টার্সে রবীন্দ্র ভারতীতে ভর্তি হই। পড়াশোনা শেষ করে মুম্বই পাড়ি দিই।

    এই সময় অনলাইন : গান শেখার শুরু কবে থেকে?

    শাওনি মজুমদার : সেটা ঠিক মনে করে বলতে পারব না। আমার বাড়িটা আসলে গানের বাড়ি। জ্ঞান হওয়ার আগে থেকেই বোধহয় আমার কানে আমির খাঁ সাহেবের সুর এসেছে। মা (সংহিতা মজুমদার) এবং দিদি (সোহিনী মজুমদার) দু’জনেই ক্লাসিক্যাল গায়িকা। আমার দাদু (মায়ের বাবা) ছিলেন সেতারবাদক। মাসি দাদুর ঘরানাটা ধরে রেখেছেন। তাই আলাদা করে কোনওদিন গান শিখতে বসতে হয়নি। আমি শুনেছি, মা আমাকে কোলে শুইয়ে ঝিনুকে করে দুধ খাওয়াতে খাওয়াতেও সঙ্গত করতেন।

    এই সময় অনলাইন : গানের পাশাপাশি আর কী কী করতে?

    শাওনি মজুমদার : আমি আসলে পড়াশোনাটা খুব কমই করতাম। গান আর স্পোর্টসে আমার ইন্টারেস্ট ছিল বেশি। ব্যাডমিন্টন, লং-জাম্প, হাই-জাম্প— সব খেলেছি। মডেলিং-ও করেছি। তবে মডেলিং করব বলে করিনি। কলেজে নানা ধরনের অনুষ্ঠান হতো। সেখান থেকেই হঠাৎ সুযোগ আসে। বড় বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজও করেছি।

    এই সময় অনলাইন : তুমি তো অভিনয়ও করেছো...

    শাওনি মজুমদার : হ্যাঁ, ওই আর কী! যেমন হয়। মডেলিং করতে করতে ওই ভাবেই হঠাৎ একদিন সুযোগ আসে। অজয় দেবগণ অভিনীত ‘ময়দান’ ছবিতে আমার একটা ছোট চরিত্র ছিল।

    এই সময় অনলাইন : চিত্তরঞ্জন থেকে কলকাতা, তার পর মুম্বই — এই জার্নিটা কেমন ছিল?

    শাওনি মজুমদার : ছোটবেলার কষ্টটা সে ভাবে মনে নেই। কিন্তু একা একা কলকাতায় এসে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকাটা খুব কষ্টের ছিল। মনে আছে, আমি ভীষণ কান্নাকাটি করেছিলাম। মায়ের পক্ষে চাকরি ছেড়ে আসা সম্ভব ছিল না। তাই বাবা আবার ট্রান্সফার নিয়ে কলকাতায় আমার সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। তার পর ২০২৩-এ আমি মুম্বইয়ে শিফট করি। মুম্বইয়ে সার্ভাইভ করাটা কিন্তু ভীষণ কঠিন। একা হাতে সবটা করতে হয়। এখন অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। এখন তো মাঝে মধ্যে চেন্নাইতেও থাকতে হয়।

    এই সময় অনলাইন : নতুন কোনও কাজ আসছে?

    শাওনি মজুমদার : অনেকগুলো কাজ করেছি। কিন্তু রিলিজ় না-হওয়া পর্যন্ত আমার বিশ্বাস নেই। তুমি তো জানো শেষ মুহূর্তে যা খুশি হতে পারে। আই অ্যাম ক্রসিং মাই ফিঙ্গার্স।

    এই সময় অনলাইন : আচ্ছা তুমি তো মডেলিং করেছো। অভিনয়েও ঝোঁক আছে। তাই শরীর ঠিক রাখতে হয়। তুমি কি নিজের ডায়েট চার্ট নিজেই করো?

    শাওনি মজুমদার : হ্যাঁ, এটা একটা সুবিধা হয়েছে জানো তো। আমি আসলে খেতে ভীষণ ভালোবসি। বিশেষ করে মিষ্টি। কিন্তু কোনটা বাদ দিতে হবে আর কতটুকু খেতে হবে, সেটা আমি বুঝতে পারি।

    এই সময় অনলাইন : মুম্বই-জীবনের অভিজ্ঞতা কেমন?

    শাওনি মজুমদার : মুম্বই আমায় একা বাঁচতে শিখিয়েছে। এটা ভীষণ জরুরি ছিল। বাজার করতে শিখেছি, রান্না করতে শিখেছি। মুম্বই আসার আগে আমি নিজে হাতে জল নিয়েও খেতাম না। এখন আমি সব করতে পারি। বিশেষ কিছু খেতে ইচ্ছে করলে মাকে ফোন করি। মায়ের রেসিপি অনুযায়ী রেঁধে ফেলি।

    এই সময় অনলাইন : কলকাতাকে মিস করো?

    শাওনি মজুমদার : হ্যাঁ, ভীষণ। কলকাতায় আমার পরিবার রয়েছে। কলকাতার খাবার মিস করি। যাই বলো, কলকাতার ফুচকা আর মুম্বইয়ের পানিপুরী তো এক নয়।
  • Link to this news (এই সময়)