মেসির ম্যাচের উত্তেজনার পর ফের যুবভারতীর গ্যালারি কেঁপে উঠল— এ বার মহামেডান সমর্থকরা নিজেদের রাগ ও হতাশা প্রকাশ করলেন চরম ভাবে। সোমবার (২৪ মার্চ) ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ০-৭ গোলে হারের পর হতাশ হয়ে পড়েন সাদা-কালো ব্রিগেডের সমর্থকরা। পুরো ম্যাচ জুড়েই মহামেডানের হতশ্রী পারফরম্যান্স দেখে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক গোল খেয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে লাল-হলুদের কাছে তারা এক প্রকার নিঃশব্দে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। আর মহামেডানের এই চরম হতাশার প্রকাশ ঘটে যুবভারতীর গ্যালারিতেই। হাতের কাছে চেয়ার পেয়ে সমর্থকরা সেগুলি ভেঙে ছুড়ে দেন।
এ দিন সাত গোলের একতরফা শো দেখেছে গোটা যুবভারতী। আর এই শো দেখে লাল-হলুদ গ্যালারিতে যখন উৎসবের ঢেউ, তখন মহামেডানের সমর্থকরা দলের পারফরম্যান্স দেখে মর্মাহত হয়ে পড়েন।। সেই যন্ত্রণাই ম্যাচের শেষে উগরে দেন তাঁরা।
ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ এতটাই তীব্র ছিল যে মহামেডানের রক্ষণ বারবার চাপে পড়ছিল। ৬ মিনিটে আনোয়ার আলি দূরপাল্লার শটে প্রথম গোল করেন, এর পর ইউসেফ এজ়েজারি এবং সল ক্রেসপো পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান। তার মধ্যে আবার বিরতির আগেই মহামেডানের ডিফেন্ডার জোসেফ লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দল আরও চাপে পড়ে। ১০ জন হয়ে যাওয়ার পর সাদা-কালো ব্রিগেডের রক্ষণ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল ভাঙা রক্ষণকে লক্ষ্য করে একের পর এক গোল করেন, শেষ পর্যন্ত সাত গোল করে তারা থামে।
এই এক তরফা হারের পরে সমর্থকদের রাগ আর উত্তেজনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। আসলে সোমবারের এই রাত শুধু গোলের উৎসব নয়, ছিল এক তরফা আধিপত্যের, যেখানে লাল-হলুদ ব্রিগেডের শক্তি এবং সাদা-কালোর অসহায়তা এক সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে। তা বলে যুবভারতীর চেয়ার ভেঙে ফের বাংলার ফুটবলকে কলঙ্কিত করাটা কখনও গ্রহণযোগ্য নয় কোনও ফুটবলপ্রেমীর কাছেই। যে কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন মহামেডান সমর্থকেরা।
এ দিকে ইস্টবেঙ্গলে শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার লাল-হলুদের এই বিশাল জয়ের পরেও উচ্ছ্বসিত ছিলেন না। বরং তিনি এই জয় নিয়ে কোনও কথাই বলতে চাননি। উল্টে দাবি করেন, ‘আমি দল নিয়ে কোনও কথাই বলব না, যা বলার থাংবই সিংটো বলবেন।’ এটা কি রাগের কথা? কারণ এর পরেই তিনি বলেন, ‘আমি যেটা প্রকাশ্যে বলার বলি, কোনও দাদাকে ভয় করি না।’ ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়োর সঙ্গে ঝামেলার পর ইস্টবেঙ্গলের এই জয়ের পর নীতু সরকারের এ হেন বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।