এই সময়: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ (West Asia War) পরিস্থিতির জেরে চাপ বেড়েছে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি, বিশেষ করে লিক্যুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) (LPG) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলায় বিকল্প পথ খুঁজছে সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। এর মধ্যে দ্রুত পাইপড গ্যাস পরিকাঠামো নির্মাণের ব্যবস্থা করা, বেশি করে পাইপড গ্যাসের ব্যবহার ও আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির মতো নানা বিষয় রয়েছে।
শিল্পমহলের সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমিত মজুতকে আরও বেশি সংখ্যক গ্রাহকের মধ্যে বণ্টন করার লক্ষ্যে গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডারের ওজন কমানোর কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের পরিবর্তে সেটিতে প্রায় ১০ কেজি এলপিজি ভরার প্রস্তাব উঠে এসেছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি সিলিন্ডারে কম গ্যাস থাকলেও তা গড়ে প্রায় এক মাস পর্যন্ত একটি পরিবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণত একটি পূর্ণ সিলিন্ডার ৩৫ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত চলে—সেই তুলনায় এই ‘হালকা’ সিলিন্ডার কিছুটা কম সময় টিকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েলের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এলপিজি সরবরাহে ঘাটতি এড়ানোর জন্য কেন্দ্র একাধিক বিকল্পের কথা বিবেচনা করছে। ১৪.২ কেজি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারে ১০ কেজি রান্নার গ্যাস ভর্তি করে বিক্রির পরিকল্পনা তার মধ্যে অন্যতম।’ যদিও ১৪.২ কেজির রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারে ১০ কেজি গ্যাস ভর্তি করে বিক্রির বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা। তাঁর কথায়, ‘এই সম্ভাবনা সম্পূর্ণ অনুমান নির্ভর।’
এই সম্ভাব্য পরিবর্তন কার্যকর হলে সিলিন্ডারের গায়ে নতুন স্টিকার লাগানো হবে, যাতে ওজন কম থাকার বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি দামও অনুপাতে কমানো হতে পারে। বর্তমানে কলকাতায় একটি পূর্ণ ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৯৩৯ টাকা। ফলে ১০ কেজির সিলিন্ডারের দাম সেই অনুপাতে কমে আসবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে, যা গ্রাহকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমানে গ্যাস বুক করার পরে বহু জায়গায় প্লাস্টিকের ১০ কেজি ওজনের গ্যাসের সিলিন্ডার ডেলিভারি দিতে শুরু করেছে তেল বিপণন সংস্থাগুলি। যদিও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা মোটেও সহজ নয়। তেল সংস্থাগুলির মতে, বটলিং প্ল্যান্টগুলিতে ওজন মাপার যন্ত্র নতুন করে ক্যালিব্রেট করতে হবে। এমনকী বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। হঠাৎ এই বদল কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমনকী রাজনৈতিক স্তরেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।