পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে রাজ্যসভার বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে থাকল ভারতের বাণিজ্য ও তেল আমদানির প্রসঙ্গ। ২৪ মার্চ, রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী স্বীকার করে নিয়েছেন যে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার জন্য ভারতের জ্বালানির আমদানির উপর প্রভাব পড়েছে।
এ তিনি বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে গোটা বিশ্বের উপরে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। ভারতের জন্যও এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আমাদের বাণিজ্য পথে সমস্যা তৈরি করেছে এই যুদ্ধ। এর ফলে পেট্রোল, ডিজ়েল, গ্যাস ও সারের নিয়ম মাফিক জোগান ধাক্কা খেয়েছে।’
যুদ্ধের পর থেকে ভারতে গ্যাসের সঙ্কট মাথাচাড়া দিয়েছে। ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক ও বাড়িতে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে। প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম বেড়েছে। রান্নার গ্যাসের সঙ্কট কার্যত আতঙ্কের চেহারা নিয়েছে নানা জায়গায়। যেহেতু ভারতে ব্যবহৃত জ্বালানির অধিকাংশ আমদানি করা হয় এবং তার বড় অংশ পশ্চিম এশিয়ার নানা দেশ থেকে আসে, তাই হরমুজ় প্রণালীতে যাতায়াত থমকে থাকায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের উপর। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, অন্য উৎস থেকে গ্যাস ও তেল জোগাড় করার কাজ করছে ভারত।
সেই বিষয়টি নিয়ে এ দিন রাজ্যসভায় বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ২৪ মার্চ তিনি বলেন, ‘যেখান থেকে সম্ভব, গ্যাস ও অপরিশোধিত তেল জোগাড় করার চেষ্টা করছি আমরা। আগামিদিনেও এই কাজ চলতে থাকবে।’
যুদ্ধের আবহে রাজ্যগুলিকে কালোবাজারি রুখতে সক্রিয় হওয়ার আবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যেন কোথাও বেআইনিভাবে মজুত না করা হয়, সেগুলি যেন রাজ্য দেখে, সেই আবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ‘নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জোগানে যেন নিশ্চিত থাকে তার জন্য কড়া পদক্ষেপ করতে হবে।’
পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বহু ভারতীয় কাজের জন্য রয়েছেন। যুদ্ধের কারণে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয়দের নিরাপত্তার উপর কেন্দ্র নজর রাখছে বলে এ দিন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এই আবহে রাজ্যসভায় দলমত নির্বিশেষে শান্তির বার্তা পাঠানো উচিত বলে জানিয়েছেন মোদী। তিনি বলেন, ‘হরমুজ় প্রণালীতে বহু জাহাজ আটকে রয়েছে। যেখানে বহু ভারতীয় কর্মী রয়েছেন। এটা ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়।’