সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে করোনা প্রসঙ্গ টানেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু তাতেই আপত্তি জানালেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মোদিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “অতিমারী ভয়াবহতা প্রধানমন্ত্রী ভুলে গিয়েছেন।”
মঙ্গলবার সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর এহেন মন্তব্য অত্যন্ত অসংবেদনশীল। করোনার সময় কী ঘটেছিল, কতজন মানুষ মারা গিয়েছিলেন এবং কী ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল, সেগুলি তিনি ভুলে গিয়েছেন।” এরপরই মোদি সরকারের বিদেশনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ভারতের বিদেশনীতি মোদির ব্যক্তিগত নীতিতে পরিণত হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, গোটা বিশ্বের কাছে তা হাসির খোরাকেও পরিণত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভালো করেই জানেন মোদি কী করতে পারেন এবং কী করতে পারেন না। যদি প্রধানমন্ত্রী আপোস করেন, তাহলে আমাদের বিদেশনীতিও ফুটো হয়ে যাবে।” রাহুলের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ভারত কৌশলগত অবস্থান হারিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো বাইরে থেকে প্রভাবিত হচ্ছে। মোদি ভারতের স্বার্থে কাজ করার পরিবর্তে আমেরিকা এবং ইজরায়েল যা বলছে সেই অনুযায়ী কাজ করছে। যুদ্ধের জেরে সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল। বলেন, “জটিল পরিস্থিতি সবে শুরু হয়েছে। এলপিজি, পেট্রোল, সার সব ক্ষেত্রেই সমস্যা দেখা দেবে। পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের স্পষ্ট ধারণা নেই।”
এদিকে সোমবার সংসদে দাঁড়িয়ে ইরানকে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। “হরমুজ অবরুদ্ধ করে রাখা কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নয়। ভারত তা মেনে নেবে না। শুধু তা-ই নয়, হরমুজে জাহাজের উপর হামলাও মেনে নেবে না ভারত।” যতদিন যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ততই খারাপ হচ্ছে। অসামরিক অবকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ঘাঁটিগুলিতেও লাগাতার হামলার চলছে। কিন্তু ভারত যে এসবের বিরোধিতা করে তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন মোদি।
অন্যদিকে, ইরানের পাশাপাশি এদিন আমেরিকাকেও ঘুরিয়ে বার্তা দিয়েছেন মোদি। তিনি বলেন, “ভারত সর্বদা মানবকল্যাণ এবং শান্তির পক্ষে। যুদ্ধ কোনও সমস্যার সমাধান নয়। সমস্যা সমাধানে আলোচনার টেবিলে বসাই একমাত্র পথ। একমাত্র কূটনীতি। সমস্ত সংঘাত এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার ‘আগ্রাসী’ মনোভাবের বিরুদ্ধে মোদির এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।