• লিঙ্গ বৈষম্য নয়, সেনাবাহিনীতে মহিলা অফিসাররাও স্থায়ী কমিশনের অধিকারী: সুপ্রিম কোর্ট
    এই সময় | ২৪ মার্চ ২০২৬
  • সেনা (Indian Army) মানে দেশের জন্য জান কবুল লড়াই। সেখানে নারী ও পুরুষে ভেদাভেদ থাকা বৈষম্যমূলক। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানিয়েছে, স্থল, নৌ ও বায়ুসেনায় কর্মরত মহিলারাও ‘স্থায়ী কমিশন অফিসার’ পদে নিযুক্ত হওয়ার অধিকারী। সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট তার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে মহিলাদের এই অধিকার দিল বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য দুই বিচারপতি হলেন উজ্জ্বল ভুঁইয়া এবং নংমেইকাপাম কোটিশ্বর সিং।

    আইনজীবী আস্থা শর্মা জানিয়েছেন, পদ্ধতিগত পক্ষপাতিত্ব ও লিঙ্গ বৈষম্যের সমালোচনা করে শীর্ষ আদালত তার রায়ে জানিয়েছে, শর্ট সার্ভিস কমিশনের (Short Service Commission) পুরুষ অফিসাররা আশা করতে পারেন না, কেবল তাঁরাই স্থায়ী কমিশন অফিসার হিসেবে যোগ্য। মহিলাদের স্থায়ী কমিশন থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি বৈষম্যমূলক। সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানিয়েছে, স্থায়ী কমিশনের জন্য প্রতি বছর ২৫০ জন মহিলা অফিসার নিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের এবং তাকে অলঙ্ঘনীয় বলে গণ্য করা যায় না।

    শর্ট সার্ভিস কমিশনের অধীনে অফিসারদের ১০ বছরের জন্য নিয়োগ করা হয়, যা ১৪ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এই মেয়াদ শেষে স্থায়ী কমিশন না পেলে তাঁদের পদত্যাগ করতে হয়। তাঁরা সাধারণত পুরো পেনশন পাওয়ার যোগ্য হন না এবং তাঁদের কর্মজীবনের অগ্রগতি সীমিত থাকে। ফলে উচ্চতর কমান্ড পদে যাওয়ার সুযোগও কম থাকে।

    এর বিপরীতে, স্থায়ী কমিশন সশস্ত্র বাহিনীতে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মজীবনের সুযোগ দেয়, যেখানে সাধারণত ২০ বছর বা অবসর গ্রহণ পর্যন্ত চাকরি করতে হয়। অফিসাররা পেনশন এবং সমস্ত অবসরকালীন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হন এবং শীর্ষ পদ-সহ বিভিন্ন পদে উন্নীত হতে পারেন।

    আইনজীবী আস্থা শর্মা জানান, শীর্ষ আদালত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার গুরুতর ত্রুটিগুলোও তুলে ধরেছে। আদালত জানিয়েছে, মহিলা অফিসারদের অ্যানুয়াল কনফিডেন্সিয়াল রিপোর্ট যথাযথ বিচার-বিবেচনা ছাড়াই দায়সারাভাবে এবং অনুমানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছিল এই বলে যে, তাঁরা কখনোই স্থায়ী কমিশনের জন্য যোগ্য হবেন না।

    পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি তুলে ধরে আদালl আরও জানিয়েছে, মহিলা অফিসারদের কোনও উন্নয়নমূলক কোর্সে বা মানদণ্ডভিত্তিক নিয়োগের জন্য পাঠানো হয়নি। তা না করায় তাঁদের কর্মজীবনে পদোন্নতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    ওই আইনজীবী জানান, এই ধরনের বৈষম্যের মোকাবিলায় আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, যে সব মহিলা অফিসার স্থায়ী কমিশনের জন্য যোগ্য, তাঁদের ২০ বছরের যোগ্যতাসম্পন্ন বলে গণ্য করা হবে। তাঁরা পেনশন ও অন্য সব সুবিধার জন্য যোগ্য হবেন। এই সুবিধা তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যাঁরা পূর্ববর্তী নির্বাচন বোর্ডে বিবেচিত হয়েও অযোগ্য ঘোষিত হয়েছিলেন।

  • Link to this news (এই সময়)