বর্তমানে CCTV-র নজরদারির বাইরে বলতে গেলে কিছুই নেই। পাড়ার মোড় থেকে রেলস্টেশন, রাস্তায়-রাস্তায় লাগানো রয়েছে CCTV ক্যামেরা। কোনও অপরাধ ঘটলে এই ক্যামেরাগুলিতে বন্দি ফুটেজ পুলিশের খুবই কাজে লাগে। তবে এই CCTV-র নজরদারিই কি এখন দেশের নিরাপত্তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে?
সম্প্রতি গাজ়িয়াবাদ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে একটি বড় মাপের পাকিস্তানি চরচক্র। খোদ দিল্লির ক্যান্টনমেন্ট এবং সোনিপত রেল স্টেশনের মতো অতি-সংবেদনশীল এলাকায় ধৃতদের কাজে লাগিয়ে গোপনে নিজেদের ক্যামেরা বসিয়েছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI।
এই ঘটনার পরেই দেশজুড়ে সকল CCTV ক্যামেরা নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে সন্দেহের বাতাবরণ। নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা-সহ দেশের সমস্ত বড় শহরে CCTV নেটওয়ার্কের ‘ন্যাশনাল অডিট’ বা জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশের সমস্ত ছোট বড় শহরগুলিতে পুরসভা, রেল, পুলিশের পক্ষ থেকে হাজার হাজার ক্যামেরা লাগানো আছে। বেসরকারি ভাবেও অনেকে ক্যামেরা লাগান। এগুলির উপরে কোনও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ নেই।
কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির আশঙ্কা, এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়েই শত্রুপক্ষ নিজেদের নেটওয়ার্ক বিছিয়েছে। তাই এখন থেকে দেশের প্রতিটি সিসিটিভি ক্যামেরার Physical Verification অর্থাৎ, সশরীর যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ক্যামেরার অ্যাক্সেস কন্ট্রোল কার হাতে রয়েছে, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চরচক্র কোথাও সরকারি ক্যামেরায় আড়ি পাতত। তবে অনেক জায়গায় নিজেরাই গোপনে ক্যামেরা ইনস্টল করেছিল। যাতে নজরদারিতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে তার জন্য ওই ক্যামেরাগুলিতে সোলার প্যানেল বা সৌরশক্তি ব্যবস্থার সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, কোনও এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও সীমান্তের ওপার থেকে সরাসরি লাইভ ফুটেজ পেত পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, CCTV ক্যামেরা ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের উপরে নজরদারি বা CCTV তথ্যকে কাজে লাগিয়ে হামলা চালানো এখন গোটা বিশ্বেই বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইজ়রায়েলে হামাসের হামলা কিংবা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের উপরে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সাম্প্রতিক হামলা— সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই সেনা বা অস্ত্রশস্ত্রের অবস্থান ট্র্যাক করার জন্য CCTV ফুটেজকে কাজে লাগাতে দেখা গিয়েছে।
দিল্লি, মুম্বই বা কলকাতার মতো বড় শহরে রাস্তায় রাস্তায় অজস্র CCTV ক্যামেরা রয়েছে। কাজেই এই শহরগুলিতে ঝুঁকি অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।