কুকুর কামড়ানোর ক্ষত শুকিয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। পরিবার ভেবেছিল বিপদ কেটে গিয়েছে। কিন্তু মারণ ভাইরাস নিঃশব্দে থাবা বসিয়েছিল শরীরের গভীরে। অবশেষে ৫ মাস পরে ইঞ্জেকশনের ভয়ে চিকিৎসা না করানোর চরম খেসারত দিতে হলো ৯ বছরের এক শিশুকন্যাকে। রেবিজ় বা জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে গত রবিবার রাতে মুম্বইয়ের কস্তুরবা হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে তার। ঘটনাটি মুম্বই সংলগ্ন নালা সোপারার। এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশের সকল অভিভাবকের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা বলে জানাচ্ছে চিকিৎসা জগৎ।
একাধিক সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুটির নাম কাশিশ সাহানি। নালা সোপারা পশ্চিমের বাসিন্দা কাশিশ স্থানীয় একটি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। প্রায় পাঁচ মাস আগে ঠাকুর্দার সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়েছিল সে। বাড়ির কাছেই এক পথকুকুরকে বিস্কুট খাওয়াতে গিয়ে কামড় খেয়েছিল সে।
সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুর্দা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ইঞ্জেকশন নিতে হবে শুনেই প্রচণ্ড কান্নাকাটি শুরু করেছিল ছোট্ট কাশিশ। সে দিন তাকে কোনও ভাবেই রেবিজ়ের ভ্যাকসিন দেওয়া যায়নি। কাশিশের পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন, পরের দিন ফের চেষ্টা করবেন।
পরের দিন অবশ্য তাঁরা দেখেছিলেন কুকুরের কামড়ের ক্ষতস্থানটি প্রায় শুকিয়ে এসেছে। শিশুটির ইনজেকশন না নেওয়ার জেদ এবং ক্ষতের শুকিয়ে যাওয়া দেখে পরিবারও আর তাকে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য জোর করেননি। তাঁরা ভেবেছিলেন, সামান্য ক্ষত। বিপদ কিছু হবে না।
এই ভুল ধারণাই শেষে ডেকে এনেছে সর্বনাশ। দিন চারেক আগে হঠাতই কাশিশের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। তার চোখ লাল হয়ে যায় এবং শরীরে অদ্ভুত অস্বস্তি শুরু হয়। চিকিৎসকদের মতে, এগুলি ছিল জলাতঙ্কের লক্ষণ।
অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে প্রথমে স্থানীয় এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে বিশেষ চিকিৎসার জন্য মুম্বইয়ের কস্তুরবা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাকে। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে রবিবার রাতে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে কাশিশ। পরিবারের চোখের সামনেই শেষ হয়ে যায় ফুটফুটে জীবন।
এই ঘটনার পরে ওই এলাকায় যান ভাসাই-বিরার পুরনিগমের (VVMC) স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। পুর স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. ভক্তি চৌধুরী জানিয়েছেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শিশুটির সংস্পর্শে যারা এসেছিল— পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে আশেপাশের শিশু, সবাইকে স্ক্রিনিং করা হবে। এদিকে এলাকায় রাস্তার কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা প্রশাসনের কাছে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বারবার সতর্ক করে বলছেন, রেবিজ় বা জলাতঙ্ক একটি মারণ রোগ। একবার লক্ষণ প্রকাশ পেলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু সময়মতো ভ্যাকসিন নিলে এই রোগ ১০০ শতাংশ প্রতিরোধ করা যায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, কুকুর বা বিড়াল আঁচড়ালে বা কামড়ালে অবিলম্বে সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে অ্যান্টি-রেবিজ় ভ্যাকসিন এবং প্রয়োজনে ইমিউনোগ্লোবুলিন ইঞ্জেকশন নিতে হবে। বাড়ির পোষা প্রাণী কামড়ালেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।