চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় (Voter list) তাঁর নামের পাশে ‘বিচারাধীন’ লেখা ছিল। আতঙ্কে ছিলেন কলিতা মাজি (Kalita Maji)। তার পরেও তাঁকে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে প্রার্থী করেছিল বিজেপি (BJP)। সেই নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল বিস্তর। অবশেষে স্বস্তি পেলেন কলিতা। সোমবার মধ্যরাতে প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে তাঁর নাম উঠেছে। অর্থাৎ এখন তিনি বৈধ ভোটার। প্রার্থী হতে আর কোনও বাধা থাকল না তাঁর।
কলিতা পেশায় পরিচারিকা। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে তাঁকে প্রার্থী করে চমকে দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু তৃণমূলের অভেদানন্দ থান্ডারের কাছে পরাজিত হন তিনি। তার পরে অজয় দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। SIR নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যে। আর তাতেই শুনানির জন্য ডাক পড়ে তাঁর।
তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জন্যই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন কলিতা নিজেই। তিনি বলেন, ‘আমরা ৭ বোন। শুধু আমার নামই বিচারাধীন। বাকি ছয় বোনের নাম ভোটার তালিকায় উঠে গিয়েছে। আমিও সব নথি জমা দিয়েছি। কমিশনের অফিসাররা বলেছেন, কোনও অসুবিধা নেই।’
সোমবার মধ্যরাতে প্রথম দফার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রায় ২৯ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাদ পড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ নাম। তবে কলিতার নাম বৈধ ভোটারের তালিকায় উঠে গিয়েছে।
এই খবর সামনে আসতেই বিজেপি আর কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিজেপি জানত, ভোটার তালিকায় কলিতার নাম ঠিক উঠে যাবে। তাই প্রার্থী করেছিল। কমিশন যে বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে, সেটা প্রমাণ হয়ে গেল।’ তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির মুখপাত্র শান্তরূপ দে-র পাল্টা দাবি, ‘নাম যে পর্যায়েই থাকুক না কেন, রাম-শ্যাম-যদু-মধু চাইলেই প্রার্থী হতে পারেন। আসলে তৃণমূল এ বার হারবে। সেটা বুঝতে পেরে অপপ্রচার করছে।’