জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri)রাজগঞ্জ থেকে এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে (Swapna Barman) প্রার্থী করেছে তৃণমূল (TMC)। প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই বিপত্তি। তিনি রেলের কর্মী। কিন্তু অভিযোগ, চাকরি থেকে ইস্তফা না দিয়েই রাজনৈতিক দলে যোগদান করেছেন স্বপ্না। এই অভিযোগেই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করল রেল (Indian Railways)। পাল্টা ১৬ মার্চ তিনি ইস্তফা দিলেও রেল তা মঞ্জুর করেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্বপ্না। শুধু তাই নয়, এই নিয়ে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ির সার্কিট বেঞ্চে মামলাও দায়ের করলেন তিনি।
২০১৮ সালে এশিয়াডে সোনা জেতেন স্বপ্না। তার পর ২০২০ সালের ৭ জানুয়ারি উত্তরপুর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের স্টাফ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ইনস্পেকটর হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। বিধানসভা ভোট ঘোষণার ঠিক আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল ভবনে গিয়ে শাসক দলে যোগ দেন স্বপ্না। তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবও। তৃণমূলে যোগ দিয়ে স্বপ্না বলেছিলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই তৃণমূলে যোগ দিলাম।’
এর পরেই বিতর্ক শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে, রেলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও কী ভাবে স্বপ্না একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন? গত ৩ মার্চ স্বপ্নার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে রেল। তার পরে এ দিন দুপুরে জলপাইগুড়ির সার্কিট বেঞ্চে হাজির হন স্বপ্না। সেখানেই রেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তিনি। অবশ্য স্বপ্না নিজে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর আইনজীবী নিলয় চক্রবর্তী বলেন, ‘ভোটে লড়বেন বলে গত ১৬ মার্চ ইস্তফা দিয়েছেন স্বপ্না। কিন্তু রেল তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিচ্ছে না।’
এ দিন বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্থের এজলাসে উঠেছিল স্বপ্নার মামলা। সার্কিট বেঞ্চের ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল সুদীপ্ত মজুমদার জানিয়েছেন, বিচারপতির কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, স্বপ্নাকে লিখিত ভাবে রেলের কাছে ভুল স্বীকার করতে হবে। পাশাপাশি তিনি চাকরি থেকে অব্যাহতি নিলে পেনশন-সহ অন্য সুযোগ-সুবিধা রেলের কাছে চাইতে পারবেন না। আগামী শুক্রবার এই মামলার শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার পরেই পিতৃবিয়োগ হয়েছে স্বপ্না বর্মনের। জানা গিয়েছে, স্বপ্নার বাবা বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। ফলে সেই ভাবে প্রচারও করতে পারেননি অ্যাথলিট। এর মধ্যেই ভোটে লড়া নিয়েই প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গেল।