সব ভোটারই (West Bengal Assembly Election 2026) ‘অ্যাজুডিকেশন’। মানে বাংলার প্রায় সাত কোটি ভোটারই এখন ‘বিচারাধীন’! মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটে ভোটার তালিকা দেখতে গিয়ে এমনই অভিজ্ঞতার মুখে পড়লেন ভোটাররা। ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তবে কমিশন সূত্রের খবর, কোনও টেকনিক্যাল সমস্যা হয়েছে। দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে। পরে রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ জানা যায়, সমস্যা মিটে গিয়েছে। কিন্তু ততক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাংলায়। নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘এটা কি ছেলেখেলা হচ্ছে?’
মঙ্গলবার সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ২৯ লক্ষ ভোটারের নাম নিষ্পত্তি হয়েছে। বাদ পড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ নাম। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছুই জানায়নি কমিশন। শুধু মাত্র নাম দেওয়া হয়েছে। কাদের নাম ভোটার তালিকায় উঠল আর কাদের বাদ পড়ল, সেই নামের তালিকাই প্রকাশ করা হয় কমিশনের ওয়েবসাইটে।
নির্বাচন কমিশনের https://electoralsearch.eci.gov.in/ - এ ওয়েবসাইটে গিয়ে নাম আছে কি না দেখছেন ভোটাররা। এ দিন সেই নাম দেখতে গিয়েই বিপত্তি বাঁধে। সেখানে এপিক নম্বর, ভাষা, রাজ্য, এবং ক্যাপচা দেওয়ার পরেই দেখায়, ‘ইলেক্টর ইজ় আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’। মানে বাংলার সমস্ত ভোটারই এখন বিচারাধীন। দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শেফালি খাতুন নামে এক ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ছিল। কিন্তু এ দিন তিনি নিজের নাম দেখতে গিয়ে দেখেন, ‘অ্যাজুডিকেশন’ লেখা। এই প্রসঙ্গ টেনে মহুয়া লিখেছেন, ‘কালীগঞ্জের ৮০ নম্বর বুথের এই ভোটারের নাম তালিকায় ছিল। কিন্তু এখন তিনি বিচারাধীন।’ এই ঘটনায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
কমিশন সূত্রের খবর, বড়সড় কোনও টেকনিক্যাল সমস্যা হয়েছে। তা সারানোর কাজ চলছে। তবে ভোটের মুখে নির্বাচন কমিশনের সার্ভার হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
উল্লেখ্য, সোমবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। সেই সময়েও বিপত্তি বেঁধেছিল। আপলোড করার পরেই কমিশনের ওয়েবসাইট ‘ডাউন’ হয়ে যায়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে তা সচলও হয়। রাত ১১টা ৫৯ মিনিট থেকে ফের ওয়েবসাইটে নিজেদের নাম দেখতে পাচ্ছিলেন ভোটাররা। কিন্তু এ দিন সবাইকে বিচারাধীন দেখানোর ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ সমস্যা মিটে যায়। কমিশন জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটিক কারণেই এই সমস্যা।