• নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে পদ্ম–প্রতীক! তোপ মমতা–অভিষেকের
    এই সময় | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: কেরালায় ইসির একটি সার্কুলারে বিজেপির পদ্ম প্রতীকের স্ট্যাম্প থাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় নির্বাচন কমিশন। দিন কয়েক আগে ওই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে যে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে, সেখানে বিজেপির স্ট্যাম্প রয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি সোমবার প্রকাশ্যে আসে। এর পরেই রাজনৈতিক দলগুলি কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

    কেরালার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে অবশ্য বিবৃতি দিয়ে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে, ‘ক্ল্যারিকাল’ ত্রুটির ফলে এমন ঘটনা ঘটেছে। এই সার্কুলার নিয়ে কমিশন একাধিক ব্যাখ্যা দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক সব যুক্তি উড়িয়ে দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গ যাওয়ার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে মঙ্গলবার দুপুরে মমতা বলেন, ‘কমিশনের ওই বিজ্ঞপ্তি শুধু কেরালার জন্য নয়, এতে সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের উল্লেখ রয়েছে। এর মানে কী? শুধু ক্ল্যারিকাল মিসটেক বললে হয়ে যাবে? নাকি বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত? ঝুলি থেকে বেড়াল তো বেরিয়ে পড়েছে।’

    তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক এক্স হ্যান্ডলে মঙ্গলবার লিখেছেন, ‘এই কারণে চিফ ইলেকশন কমিশনার নির্বাচনের প্যানেল থেকে চিফ জাস্টিস অব ইন্ডিয়াকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে জুডিশিয়াল অথরিটি ছিল তা খর্ব করা হয়েছে। এই ভাবে যদি চলতে থাকে তা হলে সে দিন বেশি দূরে নেই যখন সুপ্রিম কোর্টের জাজমেন্টে রাজনৈতিক স্ট্যাম্প থাকবে।’

    কেরালার সিইও অফিস দফায় দফায় এই সার্কুলার নিয়ে ত্রুটি স্বীকার করে ইতিমধ্যে ব্যাখ্যাও দিয়েছে। কমিশনের যুক্তি, ২০১৯–এর একটি গাইডলাইনের ব্যাখ্যা চেয়ে সিইও অফিসে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল বিজেপির কেরালা শাখা। স্মারকলিপির সঙ্গে সেই বছরের গাইডলাইনের একটি প্রতিলিপিও জমা দেওয়া হয়। তাতে বিজেপির দলীয় প্রতীকের স্ট্যাম্প ছিল। ভুল করে ওই প্রতিলিপি বিভি‍ন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    কেরালার সিইও অফিস দফায় দফায় এই সার্কুলার নিয়ে ত্রুটি স্বীকার করে ইতিমধ্যে ব্যাখ্যাও দিয়েছে। কমিশনের যুক্তি, ২০১৯–এর একটি গাইডলাইনের ব্যাখ্যা চেয়ে সিইও অফিসে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল বিজেপির কেরালা শাখা। স্মারকলিপির সঙ্গে সেই বছরের গাইডলাইনের একটি প্রতিলিপিও জমা দেওয়া হয়। তাতে বিজেপির দলীয় প্রতীকের স্ট্যাম্প ছিল। ভুল করে ওই প্রতিলিপি বিভি‍ন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে মমতা মঙ্গলবার কলকাতা বিমানবন্দরে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নোটিফিকেশনে বিজেপির ভোটের প্রতীক! ইসি তা হলে কার ইশারায় চলছে? নন্দীগ্রামের বিডিও চলে আসছেন ভবানীপুরে। কারণ, গদ্দারের নি‍জের লোক বলে? ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সোমবার পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যাকডোর থেকে খেলছেন কেন? সামনাসামনি এসে খেলুন। সবাই বুঝতে পারছে।’

    নন্দীগ্রামের বিডিও–কে ভবানীপুরে নিয়ে আসার পাশাপাশি মালদা জেলায় পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে জয়ন্ত কান্ত নামে এক আইপিএস অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। যাঁর স্ত্রী স্মৃতি পাসোয়ান বিহারে বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়াই করেছেন বলেও অভিযোগ তৃণমূলের।

    যদিও বঙ্গ বিজেপি মনে করছে ওই সার্কুলার ভুয়ো। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘আমিও তো মুখ্যমন্ত্রীর নামে একটি প্যাড ছাপিয়ে বিজেপি–র স্ট্যাম্প মেরে দিতে পারি! এটা থেকে কী প্রমাণ হয়? এগুলো শিশুসুলভ অভিযোগ। তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী কী সব কাগজ দেখিয়ে রাজনীতি করছেন!’ বিডিও বদল নিয়ে মমতা সরব হওয়ায় ভবানীপুরের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয় কেন? উনি হারের আতঙ্ক থেকে এ সব কথা বলছেন। আমিও এমন লিস্ট প্রকাশ করব যেখানে দেখা যাবে, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ওএসডি হিসেবে কাজ করা পাঁচজনকে ডিইও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।’

    নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত সার্কুলার এবং অফিসারদের বদলি নিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব পাল্টা যুক্তি দিলেও বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল পদ্ম–ছাপ দেওয়া বিজ্ঞপ্তি নিয়ে সরব হয়েছে। এই রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষিতে মমতা এ দিন বলেন, ‘সব দলকে অনুরোধ করব একতরফা স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে। আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থন চাইছি না। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য, সংবিধান রক্ষার জন্য, সকলে জোট বেঁধে, কে বাম, কে ডান ভুলে যান। আমার পাশে থাকার দরকার নেই, মানুষের পাশে থাকুন।’ মমতার এই বার্তা শুনে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘তৃণমূল নেত্রী কী বলেছেন জানি না। কেরালায় আমাদের দল কমিশনের সঙ্গে বিজেপির এই আঁতাত প্রথম ফাঁস করেছে। লোক দেখানো ভুল স্বীকার করা হলেও আমরা স্পষ্ট বলছি, কমিশন এবং বিজেপি এখন একই স্ট্যাম্প ব্যবহার করছে।’

  • Link to this news (এই সময়)