এই সময়: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের পক্ষে ফলাফল ৩১–০ রাখার টার্গেট দেওয়ার পাশাপাশি বিজেপির প্রার্থীরা প্রচারে এলে তাঁদের দিয়ে বাড়িঘর পরিষ্কার করিয়ে নিতেও জনতাকে পরামর্শ দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির দুবরাজপুরের প্রার্থী অনুপ সাহা প্রচারে বেরিয়ে এক ব্যক্তির দাড়ি কেটে দিচ্ছেন, সেই ছবি ভাইরাল হয়েছে। ওই দৃশ্য অভিষেকের চোখেও পড়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় মঙ্গলবার প্রথম নির্বাচনী সভায় অভিষেক বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় দেখছি বিজেপির প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাড়ি কামিয়ে দিচ্ছেন। কেউ দেখছি, জল তুলে দিচ্ছেন। কেউ মাথা টিপে দিচ্ছেন। মায়েদের বলব, বিজেপি প্রার্থী বাড়িতে প্রচারে এলে ঘরদুয়ার পরিষ্কার করাবেন। ভাইরা এদের দিয়ে হাত–পা টেপাবেন। বলবেন, দাড়ি কেটে দাও, চুল কেটে দাও। বাড়ির যত কাজ রয়েছে তা করিয়ে নিন। এখন এরা অনেক কিছু করবে। ৪ তারিখের পরে এদের টিকি খুঁজে পাবেন না।’
অভিষেকের এই মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘এ সব রাজনৈতিক কথা নয়। এই ধরনের মন্তব্যে ভাষা সন্ত্রাস রয়েছে।’ বিজেপি সমালোচনা করলেও তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, ‘ভোট চলে গেলে এদের কাউকে আর দেখতে পাওয়া যায় না। সেই জায়গায় তৃণমূল সারা বছর মানুষের পাশে থাকে।’
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি কেন্দ্রের অন্যতম পাথরপ্রতিমা বিধানসভায় তৃণমূল সরকার কী কী কাজ করেছে, অভিষেক এ দিন তার বিশদ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতার কথায়, ‘তিন বছরে ২৯৭ কিমি গ্রামীণ রাস্তা ১৪৫ কোটি টাকা খরচ করে ‘পথশ্রী’ প্রকল্পে হয়েছে। ‘বাংলা আবাস’ যোজনায় ২ বছরে ১৬৮৪৩ জনকে পাকা ছাদ দেওয়া হয়েছে। এই বিধানসভায় ৯৩ হাজার মায়েদের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ দেওয়া হচ্ছে। ‘খাদ্যসাথী’–তে ৩ লক্ষের উপর লোককে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পে ৭০ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে ১৬৬০৮ জন যুবক যুবতী ইতিমধ্যে ১৫০০ টাকা পেয়েছেন। এছাড়াও ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে ৯৭৯৫৪ জন উপকৃত হয়েছেন।’
কিছু দিন আগে অমিত শাহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে সভা করে তৃণমূল জমানায় কোনও উন্নয়নের কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেছিলেন। অভিষেক এ দিন বলেন, ‘২০২১–এ অমিত শাহ এখানে সভা করে বলেছিলেন সুন্দরবনকে জেলা করে ২ লক্ষ কোটি টাকা দেবেন। এক পয়সা দেননি। এদের (বিজেপি) বলুন ‘হিসেব দাও’। আমরা তো হিসেব দিয়েছি। অমিত শাহ অনেক হম্বিতম্বি করেছেন কিন্তু একটি প্রশ্নেরও সদুত্তর দিতে পারেননি।’
তৃণমূল সরকারের কাজের রিপোর্ট কার্ড মানুষের সামনে তুলে ধরে আগামী পাঁচ বছরে কী কী কাজ করা হবে, তারও বিবরণ দিয়েছেন অভিষেক। এই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জোড়াফুলের পক্ষে ফলাফল ৩১–০ রাখার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি। এমনকী, এই বিধানসভায় জয়ের মার্জিন ৪০ হাজারের উপরে নিয়ে যাওয়ার টার্গেটও বেঁধে দিয়েছেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কথায়, ‘বিজেপির একজন প্রতিনিধিও যেন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। পদ্মফুলে দিলে ছাপ, ঘরে ঢুকবে কেউটে সাপ। একটাকেও সুযোগ দেবেন না। যাঁরা বনগাঁ, নদিয়ার দিকে এদের জিতিয়েছিল সেই মতুয়া ভাইদের সব নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দিয়েছে। এদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে।’
গেরুয়া শিবিরের সংগঠন এবং জনসমর্থন না–থাকায় পিছনের দরজা দিয়ে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে দলীয় নেতৃত্বের কাছে খবর এসেছে। বিশেষ করে বুথ স্তরের কর্মীদের প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘তৃণমূলের বিএলএ–২ এর তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়, সেই লিস্ট চলে গিয়েছে বিজেপির হাতে। গেরুয়া নেতারা দিল্লি থেকে ফোন করে বলছে, আমাদের হয়ে কাজ করো, তোমাদের টাকা দেব। ওদের বুথে বসার লোক নেই। এমন ফোন যদি পান, ধরবেন, কথা বলবেন, টাকা নেবেন কিন্তু জোড়াফুলের হয়ে ভোট করবেন।’ অভিষেকের এই অভিযোগ নিয়ে দেবজিৎ বলেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। বিজেপির কেউ তৃণমূলের কোনও বিএলএ–২’কে ফোন করছেন না।’ অভিষেক আজ, বুধবার নন্দীগ্রামে কর্মিসভা করবেন।