• মাইক্রো প্ল্যানিং তৈরি করেই ডেঙ্গি মোকাবিলা সল্টলেকে
    এই সময় | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • শ্যামগোপাল রায়

    এখন সবে মার্চের শেষ। কিন্তু ভরা বর্ষার ‘পিক সিজ়ন’ আসার আগেই কোমর বেঁধে নামছে বিধাননগর পুরনিগম। গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জুলাই থেকে নভেম্বর— এই বিপজ্জনক সময়ে ডেঙ্গির মোকাবিলা করতে এখন থেকেই ‘ব্লু প্রিন্ট’ তৈরি করছেন পুর–কর্তৃপক্ষ। পরিসংখ্যান বলছে, সল্টলেক ও সংলগ্ন এলাকায় গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গির দাপট আপাতত কিছুটা কম। কিন্তু আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই বলেই মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

    পুরনিগম সূত্রের খবর, ২০২৫-এর প্রথম দু’মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮, চলতি বছরের ২৪ মার্চ পর্যন্ত সেই সংখ্যা ৪। কিন্তু ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টি ওয়ার্ডকে ইতিমধ্যেই ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত বছর যে সব এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ ছাড়িয়েছিল, সেগুলিকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে তৈরি করা হচ্ছে ‘মাইক্রো-প্ল্যান’।

    কী এই ‘মাইক্রো-প্ল্যান’? পুরনিগমের আধিকারিকদের মতে, প্রতিটি ওয়ার্ডের ভৌগোলিক অবস্থান ও জমা জলের সমস্যার চরিত্র আলাদা। তাই ঢালাও পরিকল্পনা না করে প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্যে আলাদা ছোট ছোট পরিকল্পনা বা ‘মাইক্রো-প্ল্যান’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। এর মূল লক্ষ্য হলো— মশার বংশবৃদ্ধির উৎসকে শুরুতেই শেষ করা। বিশেষত সল্টলেকের এফই, বিডি, এফডি, একে, ইই ব্লক এবং করুণাময়ী ও বৈশাখী আবাসন এলাকাগুলিতে গতবার সংক্রমণের হার ছিল সর্বাধিক। এই এলাকাগুলির জন্যে তৈরি হচ্ছে বিশেষ নজরদারি মানচিত্র।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি অফিস চত্বর, বছরের পর বছর তালাবন্ধ হয়ে পড়ে থাকা বাড়ি এবং পরিত্যক্ত ফাঁকা জমিগুলিই মশার প্রধান আঁতুড়ঘর। এই সব জায়গায় নজরদারি চালাতে এ বার অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরনিগম। বহুতলের ছাদ বা পাঁচিলঘেরা জমিতে জল জমে আছে কি না, তা ড্রোনের ক্যামেরায় ধরা পড়বে। পতঙ্গবিদ দেবাশিস বিশ্বাসের মতে, ‘এখন থেকেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় এটাই এডিস ইজিপ্টাই মশার ডিম পাড়ার আদর্শ সময়।’ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এলাকায় একজন আক্রান্ত হলেও তাঁর আশপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। পুর–কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বার্তা, শুধুমাত্র সরকারি নজরদারিতে ডেঙ্গি নির্মূল সম্ভব নয়। নাগরিকদের সমান ভাবে সজাগ থাকতে হবে। বাড়ির আশেপাশে বা টবে যাতে এক ফোঁটাও জল না জমে থাকে, তা নিশ্চিত করাই এখন সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • Link to this news (এই সময়)