এই সময়, সিউড়ি: জেলার ১১টি আসনে অনুব্রত মণ্ডলই তৃণমূলের মুখ বলে দাবি করলেন বীরভূম কোর কমিটির সদস্য সুদীপ্ত ঘোষ। তাঁর এই মন্তব্যের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে (যার সত্যতা যাচাই করেনি 'এই সময়')।
সোমবার রাতে বোলপুর শহরে তৃণমূলের প্রচার সভা ছিল। সেই সভায় অনুব্রত মণ্ডল, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য সুদীপ্ত ঘোষ–সহ আরও জেলা নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। সেই সভাতেই সুদীপ্ত বলেন, 'রাজ্যের ২৯৪টি আসনে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী, তেমনই বীরভূমের ১১টি আসনে অনুব্রত মণ্ডলই প্রার্থী। তাঁকে দেখেই সবাই ভোট দেন।' এই ভিডিয়ো মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।
সুদীপ্তের মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে ফের একবার আলোচনায় আসে জেলায় কেষ্ট–কাজল দ্বন্দ্ব। নাম না প্রকাশের শর্তে এক তৃণমূল নেতা বলেন, 'সুদীপ্ত বোঝাতে চেয়েছেন, জেলায় দলের সংগঠন এবং নির্বাচনী লড়াইয়ের নেতৃত্বে কেষ্টই। কিন্তু এ বার সব আসনে দাদার (অনুব্রত) প্রার্থী নেই। নিজের অধিকার জাহির করতেই এমন বক্তব্য রেখেছেন অনুব্রত অনুগামী সুদীপ্ত ঘোষ। কারণ বীরভূমে কাজল–কেষ্ট সম্পর্ক সকলেই জানেন।' সুদীপ্ত ঘোষের যুক্তি, 'দাদার নেতৃত্বে আমরা সারা জেলা জুড়ে লড়াই করব। সেটাই বলেছি।'
পাল্টা কটাক্ষ করে বিজেপির জেলা নেতা ধ্রুব সাহা বলেন, 'তেলে জলে কখনও মেশে না। সবাই কেষ্ট–কাজল দ্বন্দ্বের কথা জানেন। কেষ্ট নিজের অস্তিত্ব জানান দিতেই এই কৌশল নিয়েছেন। আদৌ কি হাঁসন গিয়ে কাজল শেখের হয়ে প্রচার করবেন কেষ্ট?'
অনুব্রত বলেন, 'আমি নিজে সব ক'টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারে–জনসভায়–জনসংযোগে পাশে থাকব। হাঁসন কেন্দ্রে দলের প্রার্থী কাজল শেখের প্রচারেও সক্রিয় ভাবে অংশ নেব।' জেলায় দিনভর কেষ্ট–কাজল নিয়ে তরজা চললেও কাজল শেখ বলেন, 'আমাদের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। উনি আমার রাজনৈতিক গুরু। কেউ ওঁকে বেশি বড় দেখাতে চাইছেন, সেটা তাঁর ব্যাপার। আমরা একজোট হয়েই ভোটে লড়াই করছি।'