• জামাকাপড় নয়, রাখা হবে ইভিএম, ১০০০ ট্রাঙ্কের বরাত পেয়ে খুশি জলপাইগুড়ি ও মালদার কারিগররা
    এই সময় | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি

    কৌশিক দে, মালদা

    স্টিলের আলমারির দাপটে তাদের দিন কবেই ফুরিয়েছে। সারা বছর সামান্য কিছু অর্ডার আসে বিএসএফ-এর কাছ থেকে। বিধানসভা ভোটের আগে আবার তারা স্বমহিমায়। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে ৭০০টি ট্রাঙ্ক তৈরির অর্ডার দিয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশসান। সময় মতো ডেলিভারির জন্য জলপাইগুড়ির শহর সংলগ্ন পান্ডাপাড়া কালীবাড়ি চেকপোস্ট এলাকায় ট্রাঙ্ক তৈরির কারখানায় এখন চরম ব্যস্ততা। লম্বায় আড়াই ফুট। চওড়া দেড় ফুট। উচ্চতা এক ফুটের সামান্য বেশি ট্রাঙ্কে জামাকাপড়, বইপত্র বা জরুরি জিনিসপত্র দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণে ব্যবহার করা হতো এতদিন। এ বার নির্বাচনে নথিপত্র, ইভিএম রাখার জন্য প্রশাসন সেই ট্রাঙ্ক ব্যবহার করবে। এক একটি ট্রাঙ্কের দাম এক থেকে দেড় হাজার টাকা।

    একটা সময়ে জলপাইগুড়ি টাউনে ট্রাঙ্ক তৈরির ৫টি কারখানা ছিল। চাহিদা কমে যাওয়ায় ৩টি কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যে দু'টি কারখানা এখনও চলছে তারও কঠিন পরিস্থিতি। পান্ডাপাড়া কালীবাড়ি চেকপোস্টের একটি কারখানার মালিক প্রান্তোষ বণিক বলেন, 'একেই ট্রাঙ্কের চাহিদা নেই। তার উপর জিআই শিটের দাম বেড়েছে। বেড়েছে কর্মীদের বেতন। সব মিলিয়ে ট্রাঙ্ক বিক্রি করে সেরকম লাভ থাকে না। বছরে এক-দু'বার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী থেকে অর্ডার আসায় কোনও ভাবে সংসার চলত। এ বার নির্বাচনের জন্য সাতশো ট্রাঙ্কের অর্ডার এসেছে। জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন ৫০০টি এবং আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন ২০০টি ট্রাঙ্কের অর্ডার দিয়েছে। ইতিমধ্যে জলপাইগুড়ি ডিএম দপ্তরে ৩০টি ডেলিভারি করা হয়েছে।' কারখানার কর্মী নিরঞ্জন সরকার জানান, আগে প্রতি মাসে একশো থেকে দু'শো ট্রাঙ্ক তৈরি হতো। বিয়ের মরশুমে কিছুটা বেশি হতো। গ্রামীণ এলাকায় ট্রাঙ্কের প্রচলন সামান্য কিছু থাকলেও শহর এলাকায় সেটা না থাকায় এই শিল্প এখন ধুঁকছে। জলপাইগুড়ির দিনবাজারের ব্যবসায়ী দুলাল মালাকার আগে ট্রাঙ্ক বিক্রি করতেন। পেট চালাতে পাশেই জুতোর দোকান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, 'গ্রামীণ এলাকায় বিয়ে উপলক্ষে অনেকেই ট্রাঙ্ক কিনে নিয়ে যান। শহরে এখন ট্রাঙ্ক অচল।'

    দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন অবশ্য এখনও ট্রাঙ্কের বরাত দেয়নি। বালুরঘাটের ব্যবসায়ী কৌশিক সরকার বলেন, 'ডিএম অফিস বা বিডিও অফিস থেকে এখনও ট্রাঙ্কের আর্ডার পাইনি। অন্য বার ভোটের সময়ে অর্ডার দেওয়া হয়। ভোট এখনও দেরি আছে। হয়তো পরে অর্ডার দেবে।' নির্বাচন এলে খুশি হন মালদার ইংরেজবাজারের মোহনপুর এলাকার ট্রাঙ্ক তৈরির কারিগরেরা। এই গ্রামের ১০টি পরিবার সারা বছর অ্যালুমিনিয়াম, টিন দিয়ে ট্রাঙ্ক তৈরির পাশাপাশি গোরুর গাড়ির কাঠের চাকায় অ্যালুমিনিয়াম এবং লোহার পাত মোড়ানোর কাজ করেন। তেলের টিনও তৈরি করেন তাঁরা। ইংরেজবাজার শহরের এক ব্যবসায়ী কয়েক দিন আগে ৩০০টি ট্রাঙ্ক তৈরির বায়না দিয়ে গিয়েছেন তাঁদের। কারিগর বৃন্দাবন মণ্ডল বলেন, 'সারা বছর ট্রাঙ্ক তৈরির কোনও অর্ডার তেমন থাকে না। শীতের সময়ে হাতে গোনা এক থেকে দু'টি অর্ডার পাই। হঠাৎ করে ৩০০টি ট্রাঙ্কের বরাত এসেছে।' নেতাজী সুভাষ রোডের ব্যবসায়ী বিনোদ দাস বলেন, 'গত বিধানসভা ও লোকসভা ভোটে আমি ট্রাঙ্ক সরবরাহ করেছিলাম। এ বারও নিশ্চয় অর্ডার পাব।'

  • Link to this news (এই সময়)