চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার
কোচবিহার জেলার ২,৭০০ বুথে ভোটকর্মী থাকবেন প্রায় ১৩ হাজার। তাঁদের খাবার সরবরাহ থেকে শুরু করে বিছানা, বালিশ, মশারি সব কিছুরই তো ব্যবস্থা করতে হবে! এ বার সেই দায়িত্ব পালন করবেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। আবার মহিলা পরিচালিত ভোট গ্রহণ কেন্দ্রেও ৬০০-র বেশি ভোটকর্মী থাকবেন। তাঁদেরও খাবার ও থাকার জন্য জিনিসপত্রের ব্যবস্থা করবেন স্বনির্ভর গোষ্ঠী।
কোচবিহারে বর্তমানে ২ হাজার ৫৩৭টি বুথ রয়েছে। এর পাশাপাশি ১৪০টির মতো সহায়ক বুথ রয়েছে। অন্য ভোটের মতো প্রত্যেক বুথে চার জন করে ভোটকর্মী থাকবেন। একজন প্রিসাইডিং অফিসার ও তিনজন পোলিং অফিসার। এ ছাড়া ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ভোটকর্মীকে রিজার্ভে রাখছে | জেলা নির্বাচন দপ্তর। কোচবিহার জেলার ছটি সদর শহর- কোচবিহার, দিনহাটা, মাথাভাঙা, তুফানগঞ্জ, মেখলিগঞ্জ এবং হলদিবাড়িতে মহিলা পরিচালিত ভোট গ্রহণ কেন্দ্র থাকবে। সব মিলিয়ে ১৫০টির উপর এই ধরনের কেন্দ্র থাকছে। অতীতে দেখা গিয়েছে, আগের দিন বুথে পৌঁছে প্রচণ্ড সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় ভোটকর্মীদের। শহরাঞ্চলের কর্মীদের মোটের উপরে কাজ চালানোর মতো ব্যবস্থা হলেও আধা শহর ও গ্রামাঞ্চলের ভোটকর্মীদের অসুবিধায় পড়তে হয়। রাতে ঠিকঠাক শোওয়ার জায়গা ও বালিশ-মশারি পাওয়া যায় না। সেইসঙ্গে আগের রাত থেকে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত খাবার জোগাড়েও খুব কষ্ট করতে হয় তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে এ বার ভোটকর্মীদের
স্বস্তি দিতে এগিয়ে এসেছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। ভোটের আগের দিন রাতে এবং পরের দিন সকাল ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করবেন ওই মহিলারাই। শুধু তাই নয়, ভোটকর্মীদের যাতে কেন্দ্রে আসার সময়ে বেশি মালপত্র বহন করতে না হয়, তার জন্য মশারি, বালিশ এবং অন্য প্রয়োজনীয় জিনিসও স্বনির্ভর গোষ্ঠী সরবরাহ করতে পারে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও কোচবিহারের কয়েকটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী এ সব সরবরাহ করেছিল। তবে তা হয়েছিল জেলা গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে।
জেলার ভোটকর্মীদের প্রথম ট্রেনিং এ মাসের ২৮ ও ২৯ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটকর্মীদের যাঁরা প্রশিক্ষণ দেবেন, সেই ১৫৪ জন মাস্টার্স ট্রেনারদের মঙ্গলবার কোচবিহার রবীন্দ্র ভবনে প্রশিক্ষণ হয়েছে। জেলাশাসক জিতিন যাদব এই প্রশিক্ষণের সূচনা করেন।