এই সময়, আসানসোল: যিনি নিজের চেষ্টায় উঠেই দাঁড়াতে পারেন না, সাহায্য নিতে হয় স্ত্রী এবং সহকর্মীদের, তাঁকেই কি না নির্বাচনে পোলিং অফিসারের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হলো!
তিনি প্রশান্তকুমার প্রসাদ। রূপনারায়ণপুর সুকান্তপল্লির বাসিন্দা। পেশা চিত্তরঞ্জনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখার সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট। পোলিওয় আক্রান্ত হওয়ার পরে তাঁর শরীরের নিম্নাংশ প্রায় অচল। তিন চাকার একটি বিশেষ স্কুটি চালিয়ে তিনি যাতায়াত করেন। বাড়ি থেকে বেরনোর সময়ে স্ত্রী সাহায্য করেন স্কুটিতে বসতে। অফিসে পৌঁছলে সহকর্মীরা তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে আসনে বসিয়ে দেন। বাড়িতে থাকলে সামান্য চলাফেরা করেন ক্রাচ নিয়ে। তিনি যে প্রতিবন্ধী, তা নিয়ে শংসাপত্র দিয়েছে মেডিক্যাল বোর্ডও। সেখানে লেখা রয়েছে, তিনি ৫০ শতাংশ প্রতিবন্ধী।
এমনই এক মানুষকে পোলিং এজেন্টের প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেওয়ার চিঠিতে তৈরি হয়েছে বিস্ময়। অস্বস্তিতে পড়েছেন প্রশান্ত। কী ভাবে তিনি কাজ সামলাবেন? অথচ চিঠিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দ্বিতীয় পোলিং অফিসার হিসেবে তাঁকে ২৮ মার্চ আসানসোল ডিএভি স্কুলের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগ দিতে হবে। এর আগে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের সময়েও তাঁকে এমনই দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দিয়ে চিঠি এসেছিল। সেই সময়ে সালানপুর বিডিওর সঙ্গে একাধিক বার দেখা করে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এ বার কী হবে?
হতাশ প্রশান্ত বলছেন, 'আমি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছি। এ ভাবে তো এই কাজ করা সম্ভব নয়। আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।' যদিও নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিকের বক্তব্য, 'ওঁর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ যদি বিষয়টা জেনেই থাকেন, তা হলে এই নামটা পাঠালেন কেন! যদি পাঠিয়েই থাকেন, তা হলে পাশে লিখে দেওয়া উচিত ছিল তাঁর শারীরিক সমস্যা রয়েছে।'