• শাল বিক্রেতার সঙ্গে প্রেম, সম্পর্ক পরিণতি না পেতেই খুন পম্পা? গড়িয়ার ঘটনায় বাড়ছে রহস্য
    এই সময় | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • ‘ভালো শাল আছে, লাগবে?’ পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে শাল বিক্রি করতেন পঙ্কজ। কোনও এক দুপুরে গড়িয়ার বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন তিনি। চোখে চোখে কথা শুরু। তৈরি হয় বন্ধুত্ব। ৪৬ বছরের রূপবাণীর সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে পঙ্কজের। বৈবাহিক বন্ধনের জাল ছিঁড়ে পঙ্কজের সঙ্গে ঘরবাঁধার স্বপ্ন দেখেছিলেন পম্পা (রূপবাণীর ডাকনাম)। সেই সম্পর্কের পরিণতি যে মৃত্যু, হয়তো জানতেন না কেউই। সম্পর্কে ছেদ পড়তেই প্রেমিকাকে খুন করে আত্মঘাতী হন পঙ্কজ, নাকি রয়েছে অন্য কোনও কারণ? তদন্তের গভীরে যাওয়ার চেষ্টায় পুলিশ।

    গত ১৫ বছর ধরে গড়িয়ার তেঁতুলতলা এলাকায় বিউটি পার্লার চালাতেন রূপবাণী। ব্যবসা ভালোই চলছিল ৷ নিয়মিত কাস্টমারও আসত ৷ নিয়মমাফিক প্রতিদিন সকালে নিজের পার্লারে পৌঁছে যেতেন তিনি। মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৫ মিনিটে পার্লারে যান রূপবাণী। তাঁকে নামিয়ে দিয়ে যান তাঁর স্বামী অনুপকুমার দাস। পুলিশ সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন স্ত্রীকে সব সময়েই চোখে চোখে রাখতেন অনুপ। নেপথ্যে রূপবাণী ও পঙ্কজের সম্পর্ক।

    রূপবাণীকে একা পাওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন পঙ্কজ। অনুপ স্ত্রীকে বিউটিপার্লারে ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজির হন পঙ্কজ। ভিতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেন। দু’জনের মধ্যে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। বিবাদ চরমে ওঠে। এর পরেই মনে হয়, রূপবাণীকে শেষ করে দেওয়ার চিন্তা আসে পঙ্কজের মাথায়। হাতাহাতির মাঝেই ধারালো অস্ত্রের কোপ বসান রূপবাণীর গলায়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়তে নিজের গলাতেও ছুরি চালান পঙ্কজ। তিনিও পরে মারা যান।

    নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ৷ এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র, রক্তমাখা পোশাক, রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ ৷ ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে ৷ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেই পার্লারও ৷ আজ দু’টি দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে ৷

  • Link to this news (এই সময়)