• মিরাট কাণ্ডের ছায়া ভদ্রেশ্বরে, নীল ড্রামে দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য
    এই সময় | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • উত্তরপ্রদেশের মিরাটের ‘নীল ড্রাম মার্ডার’ কেসের ছায়া এ বার হুগলির ভদ্রেশ্বরে। ভদ্রেশ্বর থানার শ্বেতপুর এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির গলাকাটা দেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। বুধবার সকালে ওই এলাকার দিল্লি রোডের ধারের জমিতে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন। তার মধ্যে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম ছিল। স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় শ্বেতপুর পুলিশ ফাঁড়িতে। পুলিশ বস্তার বাঁধন খুলতেই দেখা যায়, ড্রামের ভিতরে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহ রয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের গলায় কাটা দাগ স্পষ্ট এবং তাঁর শরীরের একাংশ ঝলসানো ছিল। এর পরে ঘটনাস্থলে আসে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিক এবং ভদ্রেশ্বর থানার পুলিশ। তারা দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠায়। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    মৃত যুবকের নাম-পরিচয় এখনও জানা য়ায়নি। তবে পুলিশের অনুমান, তাঁর বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। পুলিশের সন্দেহ, ওই যুবককে অন্য কোথাও খুন করে ড্রামে ভরে দেহ ফেলে দিয়ে যাওয়া হয়েছে ভদ্রশ্বরে। তথ্যপ্রমাণ লোপাটের জন্যই তাঁকে ড্রামে ঢুকিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

    ভদ্রেশ্বর থানার পুলিশ ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। দিল্লি রোডের মতো ব্যস্ত রাস্তার ধারে এমন নৃশংস ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। খুনের রহস্য উদঘাটনে আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।

    ২০২৫ সালের মার্চ মাসে উত্তরপ্রদেশের মিরাটের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড সামনে আসে। সেখানের বাসিন্দা সৌরভ রাজপুত নামে এক ব্যক্তিকে তাঁর স্ত্রী ও স্ত্রীয়ের প্রেমিক মিলে খুন করে। তার পরে সৌরভের দেহ টুকরো করে নীল ড্রামে পুরে সিমেন্ট ঢেলে আটকে দেন। সৌরভের নিখোঁজ হওয়ার তদন্তে নেমে বাড়িতে রাখা ওই ড্রাম উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হয় মৃতের স্ত্রী মুসকান রস্তোগী ও তার প্রেমিক সাহিল শুক্লাকরে। এই ‘নীল ড্রাম মার্ডার’ ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে এবং মানুষের মনে গভীর আতঙ্কের ছাপ ফেলে।

  • Link to this news (এই সময়)