ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে নতুন বিতর্ক। সেখানকার রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশনকে একটি চিঠি দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের পক্ষে দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডেরেক ও'ব্রায়েন এই চিঠি পাঠিয়েছেন।
২০১১ ব্যাচের ডব্লিউবিসিএস (এগজিকিউটিভ) অফিসার সুরজিৎ রায়। তিনি নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাজ্যের ৭৩টি রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় ছিলেন সুরজিৎ রায়। তাঁকে ভবানীপুর কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে পাঠানো হয়। এখানেই আপত্তি তৃণমূলের। রাজ্যের শাসক দলের দাবি, রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায় রাজ্যের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ।
তৃণমূলের দাবি, ২০২৬-এর নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একজন অফিসার রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ওই চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, সুরজিৎ রায়ের বর্তমান পদমর্যাদা (অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর অফ ল্যান্ড রেকর্ডস) তাঁর রিটার্নিং অফিসারের পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাধারণত এই পদে জয়েন্ট সেক্রেটারি পদমর্যাদার অফিসাররা থাকেন, ফলত তাঁকে রিটার্নিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ নিয়মমাফিক হয়নি।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২৮এ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অফিসারদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। অবিলম্বে সুরজিৎ রায়কে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারের পদ থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তাঁকে যে কোনও ধরণের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে। ভবানীপুর কেন্দ্রে কোনও নিরপেক্ষ এবং সিনিয়র অফিসারকে নতুন রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে হবে।
সম্প্রতি খড়্গপুরে একটি কর্মিসভা থেকে খড়্গপুর টাউন থানার আইসির বিরুদ্ধে কয়েকটি মন্তব্য করেন বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। হুঁশিয়ারির সুরে দিলীপ বলেন, ‘বাড়াবাড়ি করবেন না, রাস্তা থেকে তুলে পটকে দেব।’ এই ধরনের মন্তব্য করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন দিলীপ। এই ধরনের মন্তব্য আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে দাবি করে কমিশনকে যথাযথ পদক্ষেপ করার দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।