• শক্তি খুইয়েছেন ‘সুগন্ধী ব্যারন’ আজমল! অসমের ভোটে অগ্নিপরীক্ষা একদা হেভিওয়েটের
    প্রতিদিন | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • তাঁর বয়স ৭৪। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে পড়তে হয়েছে বিশ্রী হারের মুখে। ১০ লক্ষেরও বেশি ভোটে তাঁকে হারিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেসের রাকিবুল হোসেন। একদা হেভিওয়েটের কাছে তাই এবারের ভোট বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ। এবং সেই চ্যালেঞ্জ পুরোদস্তুর যে তিনি নিয়েছেন তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে তিনি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়। কিন্তু তাতেও কি আখেরে কোনও লাভ হবে? অসমের বিধানসভা নির্বাচনে কি দেখা যাবে বদরুদ্দিন আজমল (Badruddin Ajmal) ‘ম্যাজিক’? এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

    গত সপ্তাহে দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বদরুদ্দিন আজমলের দল এআইইউডিএফ। সেই দফার সবচেয়ে বড় চমক ছিল তালিকায় খোদ আজমলের নাম! কাছাড় জেলার বিন্যাকান্দি কেন্দ্র থেকে লড়বেন তিনি। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেকেরই মতে, ‘সুগন্ধী ব্যারন’ আজমলের ‘সেদিন গিয়াছে।’ অসমের বঙ্গভাষীয় মুসলিম তথা মিঁয়াদের আস্থার কেন্দ্র ছিলেন তিনি। অসমের জনসংখ্যার ৩০ শতাংশই মিঁয়া। গত দুই দশক ধরে এআইইউডিএফ সংখ্যালঘু ভোট পেয়ে এসেছে। বিশেষ করে ধুবরি, বারপেটা, গোয়ালপাড়া, যমুনামুখ, হোজাই, নাগাওন, বারাক উপত্যকার মতো অঞ্চলে। সেই আস্থায় এখন ভাটার টান। আজমলের দলের বিধায়করা নিজেদের এলাকায় উন্নয়ন করেননি বলেই অভিযোগ সেখানকার মানুষদের।

    ২০২১ সালে ১৬টিতে জয় পেয়েছিল এআইইউডিএফ। তাদের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি ১৮ আসন, ২০১১ নির্বাচনে। এবার ২৭টি আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আজমল কর্মীদের চাঙ্গা করতে শুরু করেছেন। দাবি করেছেন, সব আসনে জিততে হবে। কিন্তু কাঁটার মতো বিঁধছে আজমলের লোকসভায় পরাজয়। দলের অন্যতম মইনুদ্দিন আহমেদ এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ”আজমল একজন ভালো নেতা। ধুবড়িতে তাঁর পরাজয় দুর্ভাগ্যজনক। তবে বিন্যাকান্দির সবাই তাঁকে পছন্দ করেন। তাঁর ভাই যমুনামুখ নির্বাচনী এলাকায় অনেক কাজ করেছেন। আমরা আশা করি, উনি এখানেও ভালো কাজ করবেন।” আরেক নেতা হুসেন আহমেদের দাবি, ”উনি আমাদের নেতা এবং বরাবরই থাকবেন।”

    তবে দলীয় নেতারা যতই ভরসা দিন, আজমল এবং তাঁর দলের সামনে চ্যালেঞ্জটা যে অত্যন্ত কঠিন, তা মানছেন ওয়াকিবহাল মহল। গতবারের জোটসঙ্গী কংগ্রেস এবার ‘প্রতিপক্ষ’। ফলে বহু কেন্দ্রে ত্রিমুখী লড়াই হবে। ফলে যেই জিতুক, মার্জিন থাকবে কমই। তাই সূক্ষ্ণ হিসেবে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতে পারে। সব মিলিয়ে বর্তমানে নির্বাচনী সমীকরণটি আরও অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে। অতীতে দলের সাফল্য নির্ভর করত সংখ্যালঘু ভোটের একত্রীকরণের ওপর। কিন্তু এখন ভোট বিভাজন হয়ে যাচ্ছে। তাই কংগ্রেস ও আজমলের দলের মধ্যে ভোট কাটাকাটি হয়ে বিজেপিকে সুবিধা করতে পারে, এমনটা মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। তাই এখন দেখার, যে রাজনৈতিক শক্তি একসময় অসামের নির্বাচনী সমীকরণ নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করত, দ্রুত পরিবর্তনশীল বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারা কি নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হবে!
  • Link to this news (প্রতিদিন)