• রণক্ষেত্রে ঘাতক, জনকল্যাণে রক্ষক, ড্রোনের দ্বিমুখী দাপট এখন হাতের মুঠোয়
    প্রতিদিন | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • দু-একটা ড্রোন নয়। শত শত ড্রোনের ঝাঁক। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যবহার করছে ইরান। আধুনিক যুদ্ধের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে এই ‘ড্রোন সোয়ার্ম’। নিখুঁত নিশানায় শত্রুঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে এই ঘাতক যন্ত্র। বহুমূল্য ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে অনেক সস্তা, অথচ কার্যকারিতায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ইরানের এই সাশ্রয়ী যুদ্ধকৌশল আজ বিশ্বের তাবড় শক্তিধর দেশের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সাধারণ মানুষের মনেও যুদ্ধ মানেই এখন ড্রোনের আতঙ্ক। কিন্তু মুদ্রার উলটো পিঠও আছে। যে ড্রোন ধ্বংসলীলা চালায়, সেই প্রযুক্তিই আবার কৃষিকাজ, দুর্যোগ মোকাবিলা কিংবা ভূ-স্থানিক গবেষণায় বিপ্লব ঘটাচ্ছে। যে ড্রোন হাজার হাজার প্রাণ কাড়ে, সেই ড্রোনই আবার মানবকল্যাণে রূপান্তর ঘটায়। কীভাবে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিই আসল কথা। প্রযুক্তির এই গঠনমূলক দিকটি নিয়েই সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক চর্চায় মাতল তিলোত্তমা।

    প্রযুক্তি মানে ধ্বংস নয়, উন্নয়নের সোপান। এই বার্তাকে পাথেয় করে সল্টলেকের বিধাননগর কলেজে অনুষ্ঠিত হল দু’দিনের এক আন্তর্জাতিক আলোচনাসভা। আলোচনার মূল উপজীব্য ছিল— রিমোট সেন্সিং, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ড্রোন প্রযুক্তি। বর্তমান যুগে পরিকল্পনা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এই ভূ-স্থানিক বা জিওস্পেশিয়াল প্রযুক্তি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কলেজের ভূগোল বিভাগ, আইকিউএসি (IQAC) এবং ‘আইআইএআরআই’ (IIARI)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

    এদিনের সভায় বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অদিতি মুখোপাধ্যায়, ডিভিসির বিশেষজ্ঞ সৌরভ কুণ্ডু এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা মেরি বিশ্বাস ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির বহুমুখী প্রয়োগ ব্যাখ্যা করেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, ড্রোনের মাধ্যমে এখন দুর্গম এলাকার মানচিত্র তৈরি থেকে শুরু করে মাটির আর্দ্রতা পরীক্ষা— সবই সম্ভব হচ্ছে। কলেজের অধ্যক্ষ ড. সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে এই ধরনের পাঠ জরুরি।” অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. অত্রেয় পালও সহমত পোষণ করেন।

    নতুন শিক্ষানীতিতে হাতে-কলমে শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই আইআইএআরআই-এর অধিকর্তা রাহুল চক্রবর্তী জানান, বর্তমানে ইন্টার্নশিপের ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাউড কম্পিউটিং ও ড্রোনের বাস্তব প্রয়োগ শেখানো হচ্ছে। ড্রোনের ডাটা কীভাবে রিমোট সেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা যায়, তার পাঠ দেওয়া হয়েছে এই কর্মশালায়। আদতে যুদ্ধের ময়দান ছাপিয়ে ড্রোন এখন গবেষণাগার ও উন্নয়নের আঙিনায় পা রেখেছে। ধ্বংস নয়, বরং সৃজনশীল কাজে এই প্রযুক্তির ব্যবহারই আগামীর দিশা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)