• সাতদিন আগেই বিগড়েছিল লিফট! আরজি কর কাণ্ডে প্রশ্নের মুখে সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ
    প্রতিদিন | ২৫ মার্চ ২০২৬
  • ঘটনার সাতদিন আগে, গত ১৩ মার্চ খারাপ হয়েছিল আর জি করের ট্রমা কেয়ারের সেই লিফট। সেদিনই ইঞ্জিনিয়াররা এসে তা ‘সারিয়ে তুলেছিলেন।’ আর জি কর হাসপাতালে লিফট (RG Kar Lift Incident) ও দেওয়ালের মধ্যে পিষে গিয়ে নাগেরবাজারের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়াবহ মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে লালবাজারের গোয়েন্দাদের হাতে উঠে এসেছে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

    সারানো সত্ত্বেও মাত্র সাতদিনের মধ্যেই কীভাবে হাসপাতালের একই লিফট বিগড়ে গেল, তার তদন্তে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। প্রাথমিকভাবে ফরেনসিকের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে পুলিশকে কিছু তথ্যও দেওয়া হয়েছে। ১৩ মার্চ লিফটটি আদৌ ভালো করে সারানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে লালবাজার। নাগের বাজারের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর স্ত্রী সোনালি ও শিশুপুত্র ট্রমা কেয়ারের ২ নম্বর লিফটটিতে ওঠার পর সেটি প্রবল ঝাঁকুনি দেয়। সেই ঝাঁকুনির কারণ পুলিশ জানার চেষ্টা করছে। এই ব্যাপারে আরও তথ্য জানতে সোমবার ও মঙ্গলবার পিডব্লুডি-র যে কর্মীরা লিফট দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। এ ছাড়াও লিফটের ইঞ্জিনিয়ার ও দেখভাল সংস্থার কয়েকজন কর্মী, ট্রমা কেয়ার ছাড়াও আর জি করের অন্যান্য বিল্ডিংয়ের লিফটম্যান, কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই তদন্তে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনকে জেরা করা হয়েছে বলে খবর। লিফট বিপর্যয়ে মৃত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কয়েকজন বন্ধু ও পরিচিত, যাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও গোয়েন্দারা কথা বলেন। ঘটনাক্রম জানতে আর জি করের অন্তত ৭০টি সিসিটিভির ফুটেজ গোয়েন্দারা পরীক্ষা করছেন।

    পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, আর জি করে লিফটে অরূপের অনিচ্ছাকৃত খুনের তদন্তে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা লিফটের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে লিফটের কন্ট্রোল প্যানেল খতিয়ে দেখেন। তদন্ত চলাকালীনই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও গোয়েন্দা আধিকারিকরা জানতে পারেন যে, এই মাসের প্রথমে ওই লিফটের স্বাস্থ্যপরীক্ষা হয়। তখন লিফটটি ভালো অবস্থায় রয়েছে বলে ইঞ্জিনিয়াররা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। এর কয়েকদিনের মাথায় গত ১৩ মার্চ ওই লিফটটি গোলমাল করতে শুরু করে। ওঠানামা করতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই থেমে যায়। লিফটের সেনসরও গোলমাল করতে থাকে। তখন লিফটের ইঞ্জিনিয়াররা এসে দেখেছিলেন, সফটওয়‍্যারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাঁরা লিফটের মাদার বোর্ড পরীক্ষা করেন। তখনকার মতো লিফট সারিয়ে সবুজ সংকেত দেন। লিফট ওঠানামা করতে শুরু করে। কিন্তু তার ৬ দিনের মাথায় ফের শুরু হয় গোলমাল।

    পুলিশ জেনেছে, অরূপ ও তাঁর পরিবারের লোকেরা লিফটের ভিতর গিয়ে যখন দোতলা থেকে পাঁচতলায় যাওয়ার জন্য বোতাম টেপেন, তখন লিফট একেবারে সাততলায় উঠে যায়। ফের লিফটটি নেমে আসে বেসমেন্টে। এর মধ্যেই দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রচণ্ড জোরে বন্ধ হয়। প্রবল ঝাঁকুনি হয় লিফটের ভিতর। লিফট ‘সারানোর’ ৬ দিনের মাথায় এই ধরনের সমস্যা কীভাবে হল, ১৩ মার্চ লিফট ভালো করে সারানো না হলেও কি সবুজ সংকেত দেওয়া হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। এই ব্যাপারে আরও তথ্য জানতে ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)