পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে LPG সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত সরকারের। রান্নার গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম জারি করল কেন্দ্র। নয়া নীতি অনুযায়ী, নিয়ম না মানলেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে রান্নার গ্যাস অর্থাৎ LPG কানেকশন। LPG ও PNG নিয়ে নিয়ম আরও কঠোর করল সরকার।
ভারতে রান্নার গ্যাস সরবরাহের নতুন নিয়মে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। নির্দেশ অনুযায়ী, যে সব এলাকায় ইতিমধ্যেই PNG পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে, সেখানে কোনও পরিবার যদি এই সংযোগ নিতে অস্বীকার করে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়সীমার পরে তাদের LPG সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। নির্দেশিকায় উল্লেখ, PNG নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা গ্রহণ না করলে প্রায় তিন মাসের মধ্যে LPG পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে।
২৪ মার্চ পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের জারি করা নতুন আদেশ অনুসারে, বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পরে কোনও পরিবার পিএনজি বেছে নেওয়ার জন্য মাত্র তিন মাস সময় পাবে। তার মধ্যে পিএনজি না নিলে এলপিজি ব্যবহারের সুযোগ হারাতে হবে।
নতুন তথ্য অনুযায়ী, সরকার শুধুমাত্র উৎসাহ দিচ্ছে না, বরং কার্যত বাধ্যতামূলকভাবে LPG থেকে PNG-তে রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে। PNG সুবিধা রয়েছে এমন এলাকায় একসঙ্গে LPG এবং PNG—এই দুই ধরনের গ্যাসের কানেকশন রাখা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে যে সব এলাকায় গ্যাসের পাইপলাইন পৌঁছে যাবে, সেখানে নতুন করে LPG সংযোগ নেওয়া বা পুরনো সংযোগ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ ক্রমশ সীমিত হয়ে আসবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো বর্তমানে তৈরি হওয়া গ্যাস সঙ্কট। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে LPG আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, ফলে দেশে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
সরকার মূলত তিনটি লক্ষ্য নিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে—
এছাড়া, যেখানে পাইপ লাইন রয়েছে সেখান থেকে LPG সরিয়ে অন্য এলাকায় সরবরাহ বাড়ানোও এই নীতির একটি বড় উদ্দেশ্য। সব মিলিয়ে, এই নতুন নীতির মাধ্যমে সরকার ধীরে ধীরে দেশের রান্নার গ্যাস ব্যবস্থাকে সিলিন্ডার নির্ভরতা থেকে পাইপ লাইন নির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে চাইছে কেন্দ্র।