মাঝেরপাড়া, পাত্রপাড়া ও সিংহপাড়া। বছর দুয়েক আগে প্রত্যন্ত এই গ্রামগুলিতে নিত্যদিনই যাতায়াত লেগে থাকত মানবাধিকার কমিশনের সদস্য থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমের। গোটা দেশ জুড়ে সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছিল ‘সন্দেশখালি’। গ্রামবাসীদের বিদ্রোহের মুখে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল রাজ্যের শাসকদলকে। সেই সন্দেশখালিতেই বুধবার দেখা গেল অন্য ছবি। তৃণমূল প্রার্থী ঝর্না সর্দারের সমর্থনে মহিলাদরে যোগদান ছিল চোখে পড়ার মতো বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের।
সন্দেশখালি কেন্দ্রে ২০২১ সালে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন সুকুমার সাহা। তবে এ বার প্রার্থী পরিবর্তন করেছে শাসকদল। সন্দেশখালি-২ ব্লকের দাউদপুরের বাসিন্দা ঝর্ণা সর্দার। জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য এবং পঞ্চায়েত সমিতির দু'বারের কর্মদক্ষ হিসেবে তিনি এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত। তাঁকেই বিধানসভার লড়াইয়ে নামিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার সকালে বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করে হাজির হন প্রার্থী।
তৃণমূল প্রার্থী ঝর্ণা বলেন, ‘আজকে আমার জন্য প্রচারে অনেক আদিবাসী সমাজের মহিলারা হাজির হয়েছেন। আমার সঙ্গেই ভোটের প্রচারে পা মিলিয়েছেন তাঁরা। সন্দেশখালির মানুষের সমর্থন তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছে। আমরা এই আসন থেকে এ বারও জিতব।’
পাত্রপাড়া ও সিংহপাড়া এলাকায় হাজার হাজার মহিলা তৃণমূলের পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে মিছিল করলেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের অধিকাংশই তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের। ধামসা-মাদলের তালে তালে আদিবাসী নৃত্যের মধ্য দিয়ে মিছিল এগোয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন সন্দেশখালি ২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি দিলীপ মল্লিক। তাঁর বক্তব্য, 'সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা এবং আগাম নির্বাচনের আগে জনসংযোগ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শুধু রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং সংগঠনের পুনরুজ্জীবনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে দল।'